বাঁকুড়া: পালাবদলের পর ‘বোনোজল’ রুখতে মঞ্চ কাঁপানো বার্তা দিয়ে আসছে নতুন শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব। একদিকে খোদ রাজ্য সভাপতি ‘ভালো তৃণমূল’ থিওরি, অন্যদিকে নব্য বিজেপিদের ‘গেরুয়া পাঠ’ দেওয়ার প্রচেষ্টা অনবরত চালিয়ে যাচ্ছেন ‘আদি বিজেপি’ নেতৃত্বরা।
এই আবহেই গলায় গেরুয়া গামছা ঝুলালেই কি কেউ হিন্দুত্ববাদী হয়ে যান? এই প্রশ্নই যেন ছুড়ে দিলেন বিজেপির প্রবীণ বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা (Niladri Sekhar Dana)। রবিবার বাঁকুড়ায় দলের শিক্ষক সংগঠনের বৈঠকে নাম না করেই তিনি কড়া বার্তা দেন তথাকথিত ‘নব্য’ বিজেপিকে, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নীলাদ্রিশেখর (Niladri Sekhar Dana) বলেন, “গলায় গেরুয়া গামছা ঝোলালেই হিন্দুত্ববাদী হওয়া যায় না। এখন দেখছি, যারা আগে তৃণমূল করত, তারাই গেরুয়া কাপড় গলায় ঝুলিয়ে বিজেপি হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু ওভাবে হিন্দুত্ববাদী হয় না।”
তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই দলের অন্দরের একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে অন্য দল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের প্রসঙ্গেই এই ইঙ্গিত বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
স্কুলে অনিয়ম নিয়েও সরব
শুধু হিন্দুত্ব নয়, বক্তব্যে শিক্ষাক্ষেত্রের অনিয়ম নিয়েও সরব হন বিধায়ক। বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, বাস্তবে যতজন ছাত্রছাত্রী মিড-ডে মিল খাচ্ছে, নথিতে তার চেয়ে বেশি সংখ্যা দেখানো হচ্ছে। এই ধরনের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দেন তিনি।
একই মঞ্চে দেশভক্তির বার্তা
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, নীলাদ্রির (Niladri Sekhar Dana) বক্তব্যের সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হরেকৃষ্ণ বেরা। পরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনিও জোর দেন দেশভক্তির শিক্ষার উপর।
প্রতিমন্ত্রীর কথায়, “বাড়ি, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়—সর্বত্র ছাত্রছাত্রীদের দেশভক্তির পাঠ দেওয়া হবে।” তাঁর দাবি, ছোটবেলা থেকেই জাতীয় চেতনা গড়ে উঠলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিতর্কিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমবে।
কেন বাড়ছে রাজনৈতিক জল্পনা?
একই মঞ্চে একদিকে বিজেপি বিধায়কের ‘গেরুয়া বনাম হিন্দুত্ব’ মন্তব্য, অন্যদিকে দেশভক্তির পাঠ চালুর বার্তা, এই দুই বক্তব্যই নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষক সংগঠনের বৈঠকে নীলাদ্রিশেখর দানার (Niladri Sekhar Dana) মন্তব্যকে ঘিরে এখন প্রশ্ন একটাই, এ কি শুধুই আদর্শের পাঠ, নাকি বিজেপির অন্দরেই নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?


