Aaj India Desk, কলকাতা : পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের সন্দেহে দিল্লি থেকে গ্রেফতার শিলিগুড়ির বাসিন্দা প্রদীপ কুমার সরকারকে (Pradeep Kumar Sarkar) ঘিরে তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। STF-এর দাবি, হাওয়ালা চক্রে যুক্ত ছিলেন প্রদীপ। হাওয়ালার মাধ্যমে বাংলাদেশে থাকা পাকিস্তানি গুপ্তচর-যোগ থাকা ব্যক্তিদের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন তিনি। সেই অর্থ পরবর্তীতে পাকিস্তানি জঙ্গি ও স্লিপার সেলের কাছে পৌঁছত বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।
হাওয়ালা থেকে বাংলাদেশ
তদন্তকারীদের দাবি, নেপাল হয়ে উত্তরবঙ্গে এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে টাকা পৌঁছনোর একটি করিডর ব্যবহার করা হচ্ছিল। প্রদীপের (Pradeep Kumar Sarkar) কয়েকজন বাংলাদেশি সহযোগীও এই নেটওয়ার্কে যুক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। হাওয়ালার হিসাব মেটাতে মাঝেমধ্যে বাংলাদেশে যাতায়াত করতেন প্রদীপ।
পাকিস্তান থেকে চলত SIM?
প্রদীপের (Pradeep Kumar Sarkar) কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি SIM কার্ড তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। STF সূত্রের দাবি, SIM-টি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। এর ব্যবহার, যোগাযোগের সূত্র এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগ খতিয়ে দেখতে SIM-টি ফরেন্সিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে।
তদন্তে ফের উঠে এসেছে রাব্বির নাম
এই তদন্তে ফের উঠে এসেছে রাব্বির নাম। জাল নোট ও SIM কার্ড পাচারের অভিযোগে ইসলামপুর থেকে গ্রেফতার ফজলে রাব্বি সিদ্দিককেও সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছিল আদালত। ইসলামপুরের পাটাগড়াগ্রাম থেকে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ইসলামপুরের প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি জাকির হোসেনের ভাই। তদন্তকারীদের দাবি, জাল নোটের কারবারে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে রাব্বির বিরুদ্ধে। আগে সাপের বিষ পাচারের মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল বলে অভিযোগ। এখন প্রদীপ ও রাব্বির মধ্যে কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে STF।
পাকিস্তানি গুপ্তচর-যোগ, হাওয়ালা, জাল নোট এবং SIM পাচারের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। বর্তমানে সমস্ত সম্ভাব্য যোগাযোগের সূত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


