Aaj India Desk, পূর্ব বর্ধমান: আরজি কর কাণ্ডের বিচার ও নির্যাতিতার স্মরণ ঘিরে যখন ফের রাজ্যজুড়ে আলোচনা, ঠিক তখনই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের দেওয়াল লিখন নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ, কলেজ চত্বরে ‘Justice for RG Kar’, ‘Stop Rape Culture’, ‘We Want Justice’, ‘শিরদাঁড়া বিক্রি নেই’, ‘ভয় ছাড়া বাঁচতে চাই’-সহ একাধিক স্লোগান লেখা হয়েছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই সমস্ত দেওয়াল লিখন মুছে ফেলার কথা জানানো হয়েছে।
সারপ্রাইজ ভিজিটে দেওয়াল লিখন দেখে ক্ষুব্ধ মন্ত্রী
পর পর দু’দিন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে আচমকা পরিদর্শনে যান রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। হাসপাতাল ও কলেজ চত্বর ঘুরে দেখার সময় তাঁর নজরে আসে বিভিন্ন দেওয়ালজুড়ে রাজনৈতিক বার্তা ও নানা স্লোগান। এরপরই কলেজ কর্তৃপক্ষকে ডেকে দ্রুত সমস্ত লেখা মুছে ফেলার নির্দেশ দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, মেডিক্যাল কলেজের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। ক্যাম্পাসে কোনও ধরনের রাজনৈতিক বার্তা বা স্লোগান লেখা যাবে না। পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজকে তিনি ‘দশের মধ্যে শূন্য’ বলেও মন্তব্য করেন।
পড়ুয়াদের সঙ্গে বৈঠকের পর সুর নরম
তবে বিষয়টি নিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছাত্রছাত্রীরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং দেওয়াল লিখন নিয়ে নিজেদের আপত্তির কথা জানান। এরপর কিছুটা সুর নরম করে পড়ুয়াদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বা বোর্ড করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন মন্ত্রী।
সেখানে দেওয়াল নষ্ট না করে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের দাবি, মতামত ও বিভিন্ন বার্তা প্রকাশ করতে পারবেন। অর্থাৎ, ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি গণতান্ত্রিকভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ রাখার কথাও জানানো হয়েছে।
ছাত্র সংগঠনগুলির প্রতিবাদ
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এসএফআই-সহ একাধিক ছাত্র সংগঠন এর বিরোধিতা করেছে। এসএফআই-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সৌভিক দাস বক্সীর দাবি, আরজি করের নির্যাতিতার বিচারের দাবিতে বাংলার মানুষ পথে নেমেছিল। তাঁর অভিযোগ, বিচার চেয়ে লেখা ‘Justice for RG Kar’ মুছে দিয়ে সেই আন্দোলনকে থামানো যাবে না।
সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন
বর্ধমান মেডিক্যালের পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো ও পরিচ্ছন্নতা নিয়েও নিয়মিত সারপ্রাইজ ভিজিট করছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর আগেও বিভিন্ন হাসপাতালে কুকুর-বিড়ালের অবাধ যাতায়াত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
সম্প্রতি মালদহ মেডিক্যাল কলেজের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি স্বীকার করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতাল চত্বর থেকে কুকুর, বিড়াল ও ইঁদুরের উপদ্রব কমাতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা পুরোপুরি সফল হয়নি। তাঁর যুক্তি, হাসপাতাল ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা কোনওভাবেই বন্ধ রাখা সম্ভব নয়।
ফলে একদিকে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে মন্ত্রীর কড়া অবস্থান, অন্যদিকে আরজি করের বিচার চেয়ে লেখা দেওয়াল মুছে ফেলার নির্দেশ দুই বিষয় ঘিরেই এখন নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


