মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে তৃণমূল নেতা পাপাই ঘোষের নাম প্রায় সকলেরই জানা! মমতা জমানায় ছিলেন তৃণমূলের যুব সভাপতি! বর্তমানে পুলিশের জালে! তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার (Arms recovered) হল একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ কার্তুজ। পুলিশের দাবি, বাড়ি থেকে মোট ৭টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫টি ম্যাগাজিন এবং ১৮৬টি কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে।
প্রসঙ্গত, অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে। ২০১৭ সালের একটি খুনের চেষ্টার মামলায় তাঁর নাম জড়িয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পালাবদলের পর তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি ওই মামলায় বহরমপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন পাপাই। তাঁর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র (Arms recovered) থাকতে পারে, এই সন্দেহে ১৪ অগস্ট তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালত তাঁকে ৯ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এরপর শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। আর সেই জেরার পর শুক্রবার রাতে পাপাই ঘোষের বাড়িতে তল্লাশি চালায় বহরমপুর থানার পুলিশ। সেখান থেকেই মেলে একের পর এক অস্ত্র।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের (Arms recovered) মধ্যে রয়েছে ২টি ৯ এমএম পিস্তল, ৩টি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল এবং ২টি ওয়ান শট পাইপ গান। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে ৫টি ম্যাগাজিন এবং ১৮৬ রাউন্ড কার্তুজ।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। অন্য একটি মামলায় এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শক্তিপুর থানার পুলিশ আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম জব্বর মণ্ডল ও আলমগীর শেখ। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬টি ম্যাগাজিন এবং ৪০ রাউন্ড গুলি (Arms recovered)। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে গোটা অভিযানের কথা জানান মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার সচিন মক্কার।
পরপর এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল অস্ত্র ও কার্তুজ কোথা থেকে এল? এগুলি কোথায় এবং কী কাজে ব্যবহার হওয়ার কথা ছিল? অস্ত্রগুলির সঙ্গে কোনও অপরাধচক্র বা অন্য কোনও ঘটনার যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তদন্ত এগোলে এই অস্ত্র-রহস্যের আরও কোনও সূত্র সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর। তবে পুলিশের এই অভিযানের পর বহরমপুর ও শক্তিপুরে অস্ত্র উদ্ধারের (Arms recovered) ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।


