Aaj lndia Desk, কলকাতা: কলকাতা হাই কোর্টে তৃণমূল নেতা সুজিত বসু ( Sujit Bose )র জামিনের মামলা ঘিরে উঠল গুরুতর অভিযোগ। রায় ঘোষণার আগে বিচারপতির চেম্বারে গিয়ে মামলার নথি দেখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে তাঁর পক্ষে থাকা এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে। ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ।
কী ঘটেছিল বিচারপতির চেম্বারে?
১৯ অগস্টের আদেশে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ জানিয়েছেন, সুজিত বসুর জামিনের মামলাটির রায় ১৭ অগস্ট ঘোষণার জন্য সংরক্ষিত ছিল। অভিযোগ, তার পরের দিন, ১৮ অগস্ট বিচারপতি যখন এজলাসে ছিলেন, তখন সুজিতের হয়ে সওয়াল করা এক আইনজীবী তাঁর ব্যক্তিগত সচিবকে সঙ্গে নিয়ে বিচারপতির চেম্বারে যান।
বিচারপতির অভিযোগ অনুযায়ী, ওই আইনজীবী এবং তাঁর ব্যক্তিগত সচিবের মধ্যে ‘যোগসাজশ ও আঁতাত’ ছিল। চেম্বারের বাইরে থাকা কর্মীদের কাছে তাঁরা মামলার নথি বের করে দেওয়ার কথা বলেন। তবে কর্মীরা সেই নির্দেশ মানেননি। তাঁরা নথি দিতে অস্বীকার করেন।
‘পরোক্ষ উদ্দেশ্যের গন্ধ’, ক্ষুব্ধ বিচারপতি
ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করেছেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। তাঁর পর্যবেক্ষণ, রায় ঘোষণার জন্য সংরক্ষিত মামলার নথি এ ভাবে দেখার চেষ্টা আদালতের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। এই আচরণের মধ্যে ‘একটি পরোক্ষ উদ্দেশ্যের গন্ধ’ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
এর পরেই মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন বিচারপতি। পাশাপাশি বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নজরে এনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অনুরোধ করেছেন তিনি। ফলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এবং বিচারপতির ব্যক্তিগত সচিবের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আইনজীবীর বিরুদ্ধে এফআইআরের দাবি
ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। তাঁর দাবি, কলকাতা হাই কোর্টের ইতিহাসে এমন ঘটনা সম্ভবত নজিরবিহীন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বিরুদ্ধে এফআইআর করে তদন্ত করা উচিত বলেও মত তাঁর। তদন্ত চলাকালীন বার কাউন্সিলের ওই আইনজীবীর লাইসেন্স বা সদস্যপদ স্থগিত রাখার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
এবার কোন পথে সুজিতের জামিন মামলা?
বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোয় সুজিত বসুর জামিনের আবেদন এখন অন্য বেঞ্চে শুনানি হবে। নতুন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি এবং রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া কী ভাবে এগোয়, সেটিই এখন নজরে। রায়ের আগে মামলার নথি দেখার চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই হাই কোর্টে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং মামলার গোপনীয় নথির নিরাপত্তা নিয়ে ওঠা এই অভিযোগের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর সকলের।


