Aaj India Desk, কলকাতা : নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে শিশু-সহ ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এবার রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার (Shubhankar Sarkar)। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দাবি করেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১০০ দিন পেরিয়ে গেলেও বিল্ডিং অডিটের ফলাফল এবং বেআইনি হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে কোনো স্পষ্টতা নেই। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবিও তুলেছেন তিনি।
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছন শুভঙ্কর সরকার (Shubhankar Sarkar)। তাঁর প্রশ্ন, তারাতলার অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতার বিভিন্ন বিল্ডিং খতিয়ে দেখা এবং অডিট করার কথা বলা হয়েছিল। সেই অডিটে কী উঠে এসেছে, তার ফলাফল প্রকাশ্যে আনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুভঙ্করের বক্তব্য, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ৩০, ৬০, ৯০ দিন পেরিয়ে ১০০ দিন হয়ে গিয়েছে। এরপরও শহরে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণহানি হচ্ছে।
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের SIT-ও গঠন করা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ তুলে শুভঙ্কর প্রশ্ন করেন, এর আগেও যে বিল্ডিং অডিটের কথা বলা হয়েছিল, তার পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, পূর্বতন সরকারের দায় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে বর্তমান প্রশাসনের গত ১০০ দিনের কাজের হিসাবও সামনে আসা প্রয়োজন।
সরকারের বিরুদ্ধে কার্যত ফুঁসে উঠে তিনি বলেন “এই সরকার চলছে না। নয়টি প্রাণ চলে গেল, কে কৈফিয়ত দেবে? আমি মনে করি মুখ্যমন্ত্রী বাংলার সব জানেন। আপনি মন্ত্রী ছিলেন তৃণমূলের আমলে, বিরোধী দলনেতাও ছিলেন। আপনি কেন ব্যবস্থা নেবেন না? আপনি সরকার তৈরির পর আমরা দেখছি, পুলিশ বিভাগ আপনার, অথচ বাংলার মাটিতে খুন হচ্ছে, ছাত্রের বাবাকে মনেরে ফেলা হচ্ছে। পুলিশ রেপ করছে। মহিলা অপহরণ করা হচ্ছে, মেরে ফেলা হচ্ছে, আজ আগুন। সব মিলিয়ে প্রায় ১৭-১৮ জন মারা গেলেন। এটা কি যেমন তেমন ব্যাপার? কার শাস্তি হবে? এর দায়িত্ব কার?”
পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, হোটেলটি কীভাবে চলছিল, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক স্তরে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, সবকিছু খতিয়ে দেখতে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শুভঙ্কর। তাঁর প্রস্তাব, তিন জন বিচারপতিকে নিয়ে একটি বিচারবিভাগীয় কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হোক।


