Aaj India Desk, কলকাতা : বিরোধী দলনেতা এবং সচেতক পদে নিয়োগকে ঘিরে হাইকোর্টের নির্দেশের ব্যাখ্যা নিয়ে গতকাল থেকেই চলছে নানান বিতর্ক। এর মধ্যেই বুধবার সকালে ফের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে মন্তব্য করলেন কালীঘাট পন্থী তৃনমূল নেতা ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর দাবি, আদালত স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেয়নি। বিধানসভার কাজ যাতে ব্যাহত না হয়, সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট নিয়োগ আপাতত ‘অস্থায়ী’ হিসেবে বহাল রাখা হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।
‘অস্থায়ী’ নিয়োগ নিয়ে কুণালের দাবি
সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্ট করে কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) দাবি করেছেন, হাইকোর্টের রায়ে বিরোধী দলনেতা ও সচেতক পদে নিয়োগের বিষয়টি বিচারাধীন রাখা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, আদালত ইনজাংশন না দিয়ে আপাতত পরিস্থিতি বজায় রেখেছে, যাতে বিধানসভার স্বাভাবিক কাজকর্মে কোনও সমস্যা না হয়। কুণালের প্রশ্ন, যদি নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে আদালতের স্বীকৃতি পেয়ে থাকে, তা হলে সেখানে ‘অস্থায়ী’ শব্দ ব্যবহারের প্রয়োজন হল কেন। তাঁর দাবি, স্পিকারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
‘মিডিয়া রায় অসম্পূর্ণভাবে দেখাচ্ছে’
এই প্রসঙ্গেই কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল (Kunal Ghosh)। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে কিছু সংবাদমাধ্যম হাইকোর্টের নির্দেশের সম্পূর্ণ বিষয়টি তুলে ধরছে না, বরং আদালতের রায়টি বিকৃত বা অসম্পূর্ণ ভাবে তুলে ধরছে।
‘ঠিকা বিরোধী দলনেতা’ বলে কটাক্ষ
পরবর্তী পোস্টে আরও আক্রমণাত্মক ভাষায় বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে কটাক্ষ করেন কুণাল। তিনি লেখেন, ‘অস্থায়ী বিরোধী দলনেতা’ অর্থাৎ ‘ঠিকা বিরোধী দলনেতা’। একই সঙ্গে তিনি অতীতে সংশ্লিষ্ট নেতার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দলনেতার মতো একটি সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদকে এভাবে ‘অস্থায়ী’ অবস্থায় রাখা পদটির মর্যাদা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি করে।
এছাড়া কুণাল ঘোষ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি পুরনো ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইতিবাচক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে কটাক্ষ করেন কুণাল। ‘পাল্টিবাজ’ ও ‘গদ্দারি’র মতো শব্দ ব্যবহার করে তিনি দাবি করেন, “এদের বেইমানি যে কোনো গিরগিটিকেও হারিয়ে দেবে।”
উল্লেখ্য, হাইকোর্টের নির্দেশকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে আদালতের নির্দেশের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে সেই ব্যাখ্যাকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করেছে তৃণমূল।আপাতত কুণাল ঘোষের বক্তব্যকে ঘিরে আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।


