Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা বা DA নিয়ে চলা মামলায় মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেশ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, বকেয়া DA-এর প্রায় ৬৫ শতাংশ ইতিমধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই খাতে ৭৭০০ কোটিরও বেশি টাকা বণ্টন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। বাকি অংশ পরিশোধের কাজও চলছে বলে আদালতকে জানায় রাজ্য।
মনিটরিং কমিটির নজরদারিতে চলছে প্রক্রিয়া
বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে এদিন মামলার শুনানি হয়। রাজ্যের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন মনিটরিং কমিটি পুরো অর্থপ্রদানের প্রক্রিয়াটি নজরে রাখছে। যেসব কর্মীর ই-সার্ভিস বুক স্ক্যান করে আপলোড করা হয়েছে, তাঁদের ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের প্রথম কিস্তির বকেয়া DA নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও শুনানিতে উঠে আসে।
‘অনেক কর্মী এখনও টাকা পাননি’, পাল্টা দাবি
তবে রাজ্যের এই বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানান মামলাকারীদের আইনজীবী করুণা নন্দী এবং ফিরদৌস শামিম। তাঁদের দাবি, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বহু সরকারি কর্মী এখনও বকেয়া DA-এর টাকা পাননি। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হলেও কর্মীরা বাস্তবে সেই অর্থ ব্যবহার করতে পারছেন না বলেও অভিযোগ ওঠে।
PF নিয়ে আদালতে প্রশ্ন
শুনানিতে PF অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়া সংক্রান্ত বিষয়ও সামনে আসে। করুণা নন্দী জানান, কর্মীদের PF অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়েছে বলা হলেও দুই বছরের ‘লক-ইন পিরিয়ড’-এর কারণে তাঁরা সেই অর্থ তুলতে পারছেন না।
এই বক্তব্যে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র। তাঁর প্রশ্ন, আদালতের আগের রায়ে যখন এমন কোনও লক-ইন পিরিয়ডের কথা নেই, তাহলে এই নিয়ম কোথা থেকে এল? এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট উত্তর দিতে না পেরে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের কাছে কিছুটা সময় চান।
যাঁরা টাকা পাননি, তাঁদের তালিকা চাইল আদালত
এদিকে, বকেয়া না পাওয়ার অভিযোগগুলিকে নির্দিষ্টভাবে যাচাই করতে উদ্যোগী হয়েছে আদালত। যেসব কর্মী এখনও টাকা পাননি বলে দাবি করছেন, তাঁদের প্রতিনিধিদের নামের তালিকা আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা কর্মীরা মনিটরিং কমিটির কাছেও বিষয়টি জানাতে পারবেন।
আগামী বুধবার ফের মামলাটির শুনানি রয়েছে। ফলে বকেয়া DA পরিশোধ, PF-এর টাকা তোলার ক্ষেত্রে লক-ইন সংক্রান্ত প্রশ্ন এবং এখনও টাকা না পাওয়া কর্মীদের অভিযোগ এই তিনটি বিষয়েই পরবর্তী শুনানিতে নজর থাকবে।


