পূর্ব মেদিনীপুর: ২০২০ থেকে ২০২১! মাত্র দু’বছরে বদলে গিয়েছিল গোটা পৃথিবী। হাসপাতালের বাইরে লম্বা লাইন, অক্সিজেনের হাহাকার, লকডাউনে স্তব্ধ শহর, আর এক অদৃশ্য ভাইরাসের আতঙ্ক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব বলছে, ওই ২৪ মাসে কোভিডের (COVID) সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৪৯ লক্ষ।
সেই ভয়াবহ স্মৃতিই ফের উসকে দিল দিঘার এক চিকিৎসকের মৃত্যু! দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুপার ডা. সন্দীপ বাগ। বয়স মাত্র ৪৩। দু’দিন আগে হঠাৎ শুরু হয়েছিল শ্বাসকষ্ট। দ্রুত তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও পথে চণ্ডিপুর ও তমলুকে তাঁকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
এসএসকেএমের চিকিৎসকদের মতে, তাঁর ফুসফুস ও শ্বাসনালীর নিচের অংশে গভীর সংক্রমণ ছিল। নিউমোনিয়ায় ফুসফুস শক্ত হয়ে যায়, এক্স-রে-তে দেখা যায় সাদা ছবি। সংক্রমণ থেকে শরীরে তীব্র প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল বলে চিকিৎসকদের ধারণা। তাঁরা জানিয়েছেন, কোভিড (COVID) জাতীয় ভাইরাসের সংক্রমণেই এই লক্ষণগুলো দেখা গিয়েছিল।
ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ম্যাসিভ অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন, অর্থাৎ গুরুতর হার্ট অ্যাটাক। পরিবারের দাবি মেনে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে ডা. সন্দীপ বাগের প্রশংসা করেছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর মৃত্যুতে শোকও প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী তবে প্রশ্ন একটাই, কোভিড-জাতীয় ভাইরাসের সংক্রমণ কি ফের নতুন কোনও সতর্কবার্তা দিচ্ছে?


