নয়াদিল্লি: ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram)-এর অবমাননায় যেখানে জেল পর্যন্ত হতে পারে, সেখানে স্বাধীনতা দিবসেই ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াল কংগ্রেস। শনিবার নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস সদর দফতরের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওয় (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি আজ ইন্ডিয়া) কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টির চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীকে এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যাচ্ছে, যা দেখে নেটিজেনদের একাংশের দাবি, ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) পরিবেশন থামানোর ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধীও।
ভিডিওতে দেখা যায়, ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন চলার সময় সোনিয়া গান্ধী ও খাড়গে আশপাশে থাকা কর্মীদের দিকে হাতের ইশারা করছেন। কিছুক্ষণ পর রাহুল গান্ধীকেও একই ধরনের অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভিডিওটি। এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জাতীয় সঙ্গীত নয়, জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’(Vande Mataram)-এর প্রতি অসম্মান দেখানোর অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা।
প্রশ্ন উঠেছে, স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের ওই অঙ্গভঙ্গির অর্থ কী? তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসের তরফে এখনও কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলট অবশ্য বিতর্ককে গুরুত্ব দিতে চাননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কোনও বিতর্ক নেই।” দলের অবস্থান নিয়ে হাইকম্যান্ড বা জয়রাম রমেশ বিস্তারিত জানাবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিতর্কের আর একটি দিক নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দিল্লির লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে। কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছিল, ‘অনুপযুক্ত প্রোটোকল’-এর কারণে তাঁরা ওই অনুষ্ঠানে যাননি।
তার পরেই কংগ্রেসের নিজস্ব স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) ঘিরে এই ভিডিও সামনে আসায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। তবে ভাইরাল ভিডিওর অঙ্গভঙ্গির প্রকৃত অর্থ কী ছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে আপাতত প্রশ্নই সবচেয়ে বড়, ‘বন্দে মাতরম’ থামানোর ইঙ্গিত সত্যিই দেওয়া হয়েছিল, নাকি ভিডিওর দৃশ্যের অন্য কোনও ব্যাখ্যা রয়েছে? সেই উত্তর ঘিরেই এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা।


