কলকাতা: ভোটে হেরে ক্ষমতা হারিয়েও কোনও ‘অদৃশ্য শক্তিবলে’ টাকা ঢুকছে তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে (TMC Bank Account Freeze Case)! তাও আবার যৎসামান্য নয়! একেবারে ৩৭০ কোটি! যা নিয়ে ‘আসল’ বনাম ‘নকল’ তৃণমূলের মধ্যেই শুরু হয়েছে বিতন্ডা! এই বিপুল অর্থের উৎস কী, কেনই বা নির্বাচনের পর এই টাকা জমা পড়ল? সেই প্রশ্নেই সরব ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী’ শিবির।
‘আসল’ তৃণমূল বনাম কালীঘাট তৃণমূলের টানাপোড়েনের মধ্যেই দলের চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (TMC Bank Account Freeze Case) হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই আইনি লড়াই চলছে। তার মধ্যেই ৩৭০ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ নতুন করে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, এত বড় অঙ্কের অর্থের উৎস, জমার সময় এবং কী উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করা হয়েছে? সবটাই স্পষ্ট হওয়া দরকার। প্রয়োজনে বিষয়টি আদালতের নজরেও আনা হবে।
শুধু ৩৭০ কোটি নয়, দলের অফিস ভাড়া ও কর্মীদের বেতন নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। আদালতে করা এক মামলায় কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবীর বক্তব্য হিসেবে ২১টি দলীয় কার্যালয়ের ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকা এবং প্রায় ২৫০ জন কর্মীর বেতন বাবদ মাসে ৫১ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচের দাবি সামনে এসেছে বলে অভিযোগ বিদ্রোহী শিবিরের। এত বিপুল অর্থ কীভাবে মেটানো হত, ব্যাঙ্কের মাধ্যমে নাকি অন্য কোনও পথে (TMC Bank Account Freeze Case)? তারও হিসাব চাওয়া হচ্ছে।
ঋতব্রতদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, লেনদেনের নথি এবং হিসাবপত্র অডিট করে দেখা হোক। গোটা বিষয়টি নথিপত্র-সহ আদালতের সামনে তুলে ধরার কথাও ভাবা হচ্ছে। অন্যদিকে, ৩৭০ কোটি টাকা জমা পড়ার অভিযোগ বা অর্থের উৎস নিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের তরফে এখনও প্রকাশ্যে কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ফলে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ভোটের অঙ্ক যখন মিলল না, তখন ব্যাঙ্কের (TMC Bank Account Freeze Case) অঙ্কে এই ৩৭০ কোটি এল কোথা থেকে? উত্তর খুঁজতেই এবার নজর আদালত, ব্যাঙ্কের নথি এবং সম্ভাব্য অডিটের দিকে।


