কলকাতা: ওড়িশা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে (Nirmal Ghosh) খড়দহ থানায় নিয়ে আসার পরই থানায় পৌঁছলেন অভয়ার (Abhaya) বাবা। শ্মশানঘাটের সেই রাতের ঘটনা নিয়ে তাঁর গোপন জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। আর অন্যদিকে নির্মল ঘোষের গ্রেফতারির খবর ছড়াতেই খড়দহ থানার বাইরে কার্যত উৎসবের আমেজ। ভিড় জমালেন বহু মানুষ। কোথাও ডিজে বাজিয়ে উচ্ছ্বাস, কোথাও নাচ! আবার নির্মলকে (Nirmal Ghosh) থানা থেকে বার করার সময় পরিস্থিতি পৌঁছল আরও উত্তপ্ত জায়গায়।
পুলিশ আগেই আঁচ করেছিল, নির্মলকে বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করার সময় পরিস্থিতি বেগতিক হতে পারে। তাই নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থা করা হয়। এমনকি নির্মল ঘোষকে হেলমেট পরিয়ে থানা থেকে বের করা হয় কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হল না। থানার বাইরে জড়ো হওয়া জনতার একাংশ নির্মলকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে শুরু করে। শুধু ডিমেই থামেনি বিক্ষোভ! ছুড়ে দেওয়া হয় জুতোর মালাও। মুহূর্তে থানা চত্বরের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই হাইভোল্টেজ পরিস্থিতির মধ্যেই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়েছে থানার ভিতরে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভয়ার (Abhaya) দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে শ্মশানঘাটের ঘটনার পুনর্তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে তদন্তের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। এরপরই অভয়ার বাবা অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের দু’দিনের মধ্যেই ওড়িশা থেকে গ্রেফতার নির্মল।
পুলিশ সূত্রে খবর, বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক। পুলিশের নজর এড়াতে পুরনো মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। তবে মোবাইল টাওয়ারের সূত্র ধরে তাঁর অবস্থান চিহ্নিত করে রাজ্য পুলিশ। সিমুলিয়া পুলিশের সাহায্যে হোটেল থেকেই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। এরপর ওড়িশার আদালতে পেশ এবং সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে খড়দহে ফেরত।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে অভয়ার প্রতিবেশী সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কেও। শুক্রবার নির্মল এবং সঞ্জয়কে বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। দুই গ্রেফতারিতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অভয়ার মা। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। নির্মল (Nirmal Ghosh) গ্রেফতার হওয়ার পর অভয়ার বাবা-মায়ের নিরাপত্তা বাড়ানোর খবরও সামনে এসেছে।
তবে তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনও একই, সেই রাতে শ্মশানঘাটে আসলে কী ঘটেছিল? তার উত্তর পেতে এবার তদন্তকারীদের সামনে অভয়ার বাবার জবানবন্দি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আর থানার বাইরে ডিম-জুতোর মালা, ডিজের তালে উচ্ছ্বাস, সব মিলিয়ে নির্মল ঘোষকে ঘিরে খড়দহে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন উত্তেজনার আবহ।


