32.1 C
Kolkata
Friday, August 14, 2026
spot_img

সম্মান যেতেই সুর বদল! নেতাজি মন্তব্যে রাতারাতি ‘দুঃখিত’ অনন্ত মহারাজ!

কলকাতা: নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় তোলপাড় হতেই অনন্ত মহারাজের (Anant Maharaj) ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান কেড়ে নিয়েছে শুভেন্দু-সরকার! আর তারপরেই হঠাৎ সুর বদল রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের। বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের কড়া পদক্ষেপের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নেতাজি-ইস্যুতে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করলেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ তথা অনন্ত মহারাজ (Anant Maharaj) নামে পরিচিত নগেন্দ্র রায়।

কী বলেছিলেন তিনি? 

তাঁর বক্তব্য ঘিরেই মূল বিতর্কের সূত্রপাত। অনন্ত মহারাজ (Anant Maharaj) দাবি করেছিলেন, শুধুমাত্র মহাত্মা গান্ধি, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারতের স্বাধীনতা এসেছে, এমন ধারণা সঠিক নয়। পাশাপাশি কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা ইতিহাসে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

তাঁর বক্তব্যের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ ছিল নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজকে ঘিরে। অনন্ত মহারাজের দাবি, কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন। জার্মানির হাতে বন্দি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমনকী, “নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন”, এমন মন্তব্যও করেন অনন্ত (Anant Maharaj)।

এরপরই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। নেতাজিকে নিয়ে এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়। রাজনৈতিক মহলেও চাপ বাড়তে থাকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, নেতাজিকে অপমান বরদাস্ত করা হবে না এবং কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন।তারপর বৃহস্পতিবার এল বড় ধাক্কা। রাজ্য সরকার প্রত্যাহার করে নিল অনন্ত মহারাজকে (Anant Maharaj) দেওয়া বঙ্গবিভূষণ সম্মান। মমতা জমানায় রাজ্যের তরফে পাওয়া এই সম্মান হারানোর পর অবশ্য প্রথমে নিজের বক্তব্য থেকে সরেননি অনন্ত।

বরং আত্মপক্ষ সমর্থন করে তাঁর দাবি ছিল, যে সময়ের কথা তিনি বলেছেন, তখন তাঁর জন্মই হয়নি। তাই নেতাজিকে অপমান করার প্রশ্নই নেই। তাঁর বক্তব্য, তিনি কাউকে গালাগাল করেননি, মনগড়া কথা বলেননি কিংবা কারও বদনামও করেননি। ইতিহাসে থাকা তথ্যই সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন বলে দাবি করেন তিনি সেখানেই শেষ নয়। অনন্ত মহারাজ (Anant Maharaj) বলেছিলেন, “আমি অন্যায় করে থাকলে আইনি শাস্তি দেওয়া যেতেই পারে।”

কিন্তু বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহারের পর পরিস্থিতি যেন অন্য মোড় নিল। আত্মপক্ষ সমর্থনের সেই সুর ছেড়ে এবার সরাসরি দুঃখপ্রকাশ করলেন তিনি। ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে অনন্ত বলেন, নেতাজি সম্পর্কে তাঁর “অনিচ্ছাকৃত” কিছু বক্তব্যে কেউ মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

অর্থাৎ, বিতর্কিত মন্তব্য থেকে ‘আমি তথ্যই বলেছি’, আর সেখান থেকে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ‘কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত’, অনন্ত মহারাজের অবস্থান বদলের এই দ্রুত গতি এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন