কলকাতা: রাজ্যসভায় বিজেপির সাংসদ অনন্ত মহারাজকে (Anant Maharaj) দেওয়া বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহার করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসতেই বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।
কয়েক মাস আগেই ভাষাদিবসের অনুষ্ঠানে দেশপ্রিয় পার্কের অমর একুশে উদ্যানে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে বঙ্গবিভূষণ গ্রহণ করেছিলেন অনন্ত মহারাজ। সেই সম্মানই এবার তাঁর হাতছাড়া। আর গোটা ঘটনার কেন্দ্রে? নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ঘিরে তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য।
সম্প্রতি কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা তুলে ধরতে গিয়ে অনন্ত মহারাজ (Anant Maharaj) দাবি করেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রচলিত ইতিহাস অসম্পূর্ণ। তাঁর বক্তব্যের একাংশে নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজকে ঘিরে এমন মন্তব্য উঠে আসে, যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। তিনি দাবি করেন, কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন এবং নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন। ব্যস! তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে যেন ‘বঙ্গবিভূষণ বনাম নেতাজি’ বিতর্কের নতুন ইনিংস।
বিষয়টি নিয়ে বুধবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নেতাজিকে অসম্মান করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। নিয়মের ঊর্ধ্বে কেউ নন! এই বার্তাও স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এল আরও বড় ধাক্কা! বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহার।
গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ এবং রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের (Anant Maharaj) ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, একদিকে তাঁর মন্তব্য ঘিরে বিজেপির অন্দরেও অস্বস্তি, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের তরফে সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত।
অর্থাৎ, বিতর্কের আগুনে এবার পড়ল পুরস্কারের পালকও! এখন প্রশ্ন একটাই, নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের পর কি আরও কোনও আইনি বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ আসছে? নাকি বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহারই আপাতত রাজ্য সরকারের ‘শেষ বার্তা’? রাজনীতি বলছে, গল্প এখনও শেষ হয়নি। নির্বাচনের আগে এই বিতর্কের আঁচ যে আরও দূর যাবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।


