29 C
Kolkata
Thursday, August 13, 2026
spot_img

‘দলিত’ খাড়গের সভা ‘অশুদ্ধ’? চলে যেতেই ‘শুদ্ধিকরণ’ বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হিন্দুত্ববাদীদের!

দেরাদুন: ভোটের ময়দানে সাধারণত পোস্টার, মিছিল আর স্লোগানেই লড়াই জমে ওঠে। উত্তরাখণ্ডে এবার সেই লড়াইয়ে ঢুকে পড়ল ধূপ-ধুনো, পুজো-অর্চনাও! কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের (Mallikarjun Kharge) সভা শেষ হওয়ার পরদিনই উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানির রামলীলা ময়দানে ‘শুদ্ধিকরণ’ ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।

ঘটনার সূত্রপাত দিন দুয়েক আগে। রামলীলা ময়দানে সভা করেন খাড়গে। তার পরদিনই ‘রাম সেনা’ নামে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সেখানে পুজো-অর্চনা করে। সেই ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন ওঠে, সভাস্থল শুদ্ধ করার প্রয়োজন পড়ল কেন?

কংগ্রেসের ব্যাখ্যা অবশ্য সরাসরি এবং বিস্ফোরক। তাদের অভিযোগ, খাড়গে (Mallikarjun Kharge)  দলিত বলেই তাঁর সভাস্থলকে ‘অশুদ্ধ’ হিসেবে দেখিয়ে এই শুদ্ধিকরণ করা হয়েছে। উত্তরাখণ্ড প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গণেশ গৌডিয়ালের দাবি, এই ঘটনা শুধু একজন নেতাকে নয়, গোটা দলিত সমাজকেই অপমান করেছে।কিন্তু বিজেপির পালটা যুক্তিও কম কড়া নয়।

গেরুয়া শিবির বলছে, ওই সংগঠনের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। বরং খাড়গের সভা থেকেই সনাতন ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তাদের। রামলীলা ময়দান সনাতনীদের আবেগের জায়গা! তাই সেখানে ‘আপত্তিকর’ স্লোগান ঘিরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেই বিজেপির দাবি। অর্থাৎ একই ঘটনার দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাখ্যা।

কংগ্রেস দেখছে জাতপাত ও দলিত অপমানের ছায়া। বিজেপি দেখছে সনাতন ধর্মের অসম্মান। আর এখানেই ভোটের অঙ্কটা গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে উত্তরাখণ্ডের রাজনীতিতে ধর্ম ও সামাজিক পরিচয়ের প্রশ্ন বরাবরই সংবেদনশীল। ফলে একটি সভাস্থলে পুজো-অর্চনার মতো ঘটনা মুহূর্তেই রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে, শুদ্ধিকরণটা ঠিক কেন করা হল? সত্যিই কি খাড়গের (Mallikarjun Kharge)  দলিত পরিচয়ের সঙ্গে এর কোনও যোগ ছিল? নাকি সভায় ওঠা কোনও স্লোগানকে কেন্দ্র করেই সংগঠনটি প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছিল? দু’পক্ষের অভিযোগের কোনওটিই এখন পর্যন্ত অন্য পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।আর বিজেপি যদি সত্যিই ওই সংগঠনের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক না রাখে, তাহলে তাদের পরবর্তী প্রশ্ন হওয়া স্বাভাবিক, এই ‘শুদ্ধিকরণ’ কর্মসূচির নেপথ্যে কারা? অন্যদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ সত্যি হলে বিষয়টি শুধু ভোটের রাজনীতি নয়, সামাজিক বৈষম্যের গুরুতর প্রশ্নও তুলবে।

ফলে ভোটের আগে উত্তরাখণ্ডে এখন শুধু কে কাকে হারাবে, সেই প্রশ্ন নয়। তার সঙ্গে জুড়েছে আরও অদ্ভুত এক প্রশ্ন, সভা শেষ হওয়ার পর ময়দানে রাজনীতি থাকবে, নাকি ‘শুদ্ধিকরণ’-এর রাজনীতিই এবার ভোটের নতুন ভাষা হবে? একদিকে ভোটের পোস্টার, অন্যদিকে ধূপ-ধুনো। উত্তরাখণ্ডের নির্বাচনী লড়াই যে এবার বেশ ‘গন্ধময়’ হয়ে উঠেছে, তা বলাই যায়!

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন