Aaj lndia Desk, কলকাতা: ১৫ অগস্টের সরকারি অনুষ্ঠান এবার অন্য আবহে করার ভাবনা। গোসাবা কাছারি মাঠ ও ঝিলা ফরেস্ট ক্যাম্প পরিদর্শন, বাড়ানো হচ্ছে নিরাপত্তা নজরদারি
সুন্দরবনেই কি উঠবে জাতীয় পতাকা?
৮০তম স্বাধীনতা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানকে ঘিরে এবার সামনে আসছে নতুন সম্ভাবনা। কলকাতার প্রচলিত অনুষ্ঠানস্থলের পরিবর্তে সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে ১৫ অগস্টের কর্মসূচি করার পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে। সেই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে উপস্থিত থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারেন বলে প্রশাসনিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
নজরে দুই সম্ভাব্য জায়গা
সুন্দরবনে অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই দুটি জায়গা প্রশাসনের বিবেচনায় এসেছে। গোসাবা কাছারি মাঠ এবং সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ঝিলা ফরেস্ট ক্যাম্প ঘুরে দেখেছেন আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের সুবিধা এবং হেলিকপ্টার অবতরণের বিষয়টি মাথায় রেখে গোসাবা কাছারি মাঠকেই শেষ পর্যন্ত বেছে নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে। তবে অনুষ্ঠানস্থল নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
উন্নয়ন পরিকল্পনার আবহেই নতুন কর্মসূচি
সুন্দরবনকে ঘিরে প্রশাসনের সাম্প্রতিক তৎপরতার সঙ্গে এই সম্ভাব্য কর্মসূচির যোগ রয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় সাতটি জেলা নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়। আগামী তিন মাসে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির উন্নয়নে নির্দিষ্ট কৌশল নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার
সম্ভাব্য সফরের খবর সামনে আসতেই সুন্দরবনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক সেখানে গিয়ে সম্ভাব্য অনুষ্ঠানস্থল এবং আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন এডিজি (সাউথ বেঙ্গল) রাজেশ প্রসাদ সিং, এডিজি (কোস্টাল) কুশমা কর, বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
পরিদর্শনের সময় সম্ভাব্য অনুষ্ঠানস্থলের পাশাপাশি সুন্দরবনের ভৌগোলিক অবস্থান, যাতায়াতের পথ এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিও খতিয়ে দেখা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য উপস্থিতি মাথায় রেখে কোথায় কী ধরনের নিরাপত্তা প্রয়োজন, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরির প্রস্তুতিও চলছে।
সরকারি ঘোষণার অপেক্ষা
সুন্দরবনের মতো রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাধীনতা দিবসের মূল সরকারি কর্মসূচি হলে তা নিঃসন্দেহে আলাদা তাৎপর্য বহন করবে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক গুরুত্বও সামনে আসবে। তবে ১৫ অগস্ট মুখ্যমন্ত্রী সত্যিই সুন্দরবনে গিয়ে পতাকা উত্তোলন করবেন কি না, আর হলে গোসাবার কোথায় অনুষ্ঠান হবে সেই উত্তর মিলবে সরকারি ঘোষণার পরেই।


