ইসলামাবাদ: জেলের দরজা খুলবে কবে? নাকি তার আগেই সামনে আসবে আরও বড় কোনও খবর? পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে (Imran Khan) ঘিরে এই মুহূর্তে এমনই একের পর এক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এর মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উঠল বিস্ফোরক দাবি! জেলেই নাকি মৃত্যু হয়েছে ইমরানের! তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই দাবি এখনও প্রমাণিত নয়।
পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সৈয়দ খানের দাবি, তিনজন সিনিয়র প্রতিরক্ষা সূত্র তাঁকে জানিয়েছেন, ইমরান খান সম্ভবত জেলেই মারা গিয়েছেন। ১০ অগাস্ট নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এমন দাবি করেন তিনি। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ওই সূত্রগুলি নিজের চোখে ইমরানের (Imran Khan) মৃত্যুর ঘটনা দেখেননি এবং তাঁদের কাছেও সরাসরি কোনও নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
ফলে প্রশ্ন আরও বড়, ইমরান সত্যিই কোথায়? তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা কেমন? এই জল্পনার মধ্যেই পরিস্থিতি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে। ইমরানের (Imran Khan) পরিবার এবং তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতাদের অভিযোগ, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। পরিবার ও চিকিৎসকদের ইমরানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার দাবিও উঠেছে। আর সেই সুযোগেই পাকিস্তানের রাজনীতির উত্তাপ আরও বেড়েছে।
খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী তথা পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
ইতিমধ্যেই আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদমুখী লং মার্চের ডাক দিয়েছে পিটিআই। অর্থাৎ ইমরানের (Imran Khan) শারীরিক অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা যত বাড়ছে, ততই রাজপথে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতিও জোরদার হচ্ছে।
এর মধ্যেই পাকিস্তানের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক চাপও তৈরি হচ্ছে। আমেরিকার ১৩ জন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠি দিয়েছেন। ইসলামাবাদের সঙ্গে ইমরান খান এবং তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির বন্দিদশা নিয়ে সরাসরি আলোচনা করার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।
কেন জেলে ইমরান খান?
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৫ অগাস্ট থেকে জেলে রয়েছেন ইমরান খান (Imran Khan)। বর্তমানে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছরের সাজা কাটছেন তিনি। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দু’জনেই সেই সাজাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
এর পাশাপাশি, ২০২৩ সালের ৯ মে-র হিংসাত্মক বিক্ষোভ নিয়েও ইমরানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। সেই সময় পিটিআই সমর্থকদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বিভিন্ন সেনা ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ উঠেছিল।
ফলে ইমরানের জেলজীবন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন নয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতির গুরুত্ব অন্য জায়গায়, একদিকে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে অভিযোগ, অন্যদিকে তাঁর (Imran Khan) মৃত্যুর দাবির মতো বিস্ফোরক জল্পনা। আর এই জল্পনাকে ঘিরেই পাকিস্তানে তৈরি হচ্ছে নতুন অস্থিরতার আশঙ্কা।
তবে আপাতত সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটির উত্তর এখনও অজানা, ইমরান খান (Imran Khan) জীবিত এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন, তার নির্ভরযোগ্য সরকারি নিশ্চিতকরণ কোথায়? কারণ প্রমাণ ছাড়া ‘মৃত্যু’র দাবি যতই বিস্ফোরক হোক, সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু যদি এই ধোঁয়াশা দ্রুত না কাটে, তাহলে ইমরান-ইস্যু যে পাকিস্তানের রাজপথে আরও বড় রাজনৈতিক বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে, সেই আশঙ্কাই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।


