Aaj India Desk, কলকাতা : হামিমকে ঘিরে জঙ্গি-যোগের তদন্তের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রাজ্যে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার আরও এক ব্যক্তি। বুধবার ভোরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বনগাঁ থেকে রানা রাউত নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ (Bengal STF)। তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা রানা ‘ওয়াহাব আলম’ নামে জাল নথি তৈরি করে ভারতে বসবাস করছিল। তাঁর সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নেপাল হয়ে ভারতে প্রবেশ
রানা ২০১২ সালে নেপাল হয়ে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করে। তার আগে বেশ কিছুদিন সে নেপালে ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। পরে সে পশ্চিমবঙ্গে বসবাস শুরু করে। ভারতীয় পরিচয়পত্র-সহ বিভিন্ন নথি তৈরিতে তাকে কলকাতার তপসিয়া এলাকার এক ব্যক্তি সাহায্য করেছিল বলে অভিযোগ করেছেন তদন্তকারীরা (Bengal STF)। ওই ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে দু’জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
রেল ও সেনার গতিবিধিতে নজর?
তদন্তকারীদের (Bengal STF) দাবি, ভারতে থাকার সময় রানা ভারতীয় রেল এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। ঠিক কী ধরনের তথ্য সে সংগ্রহ করছিল এবং সেই তথ্য অন্য কোথাও পাঠানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তাঁর সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআইয়ের কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশে পালানোর পরিকল্পনা?
সম্প্রতি জঙ্গি সন্দেহে হামিমকে গ্রেপ্তারের পর রানা বাংলাদেশে পালানোর পরিকল্পনা করছিল বলে তদন্তকারীদের কাছে তথ্য আসে। গোপন সূত্রে সেই খবর পাওয়ার পর বনগাঁয় নজরদারি বাড়ায় বেঙ্গল এসটিএফ। এরপর বুধবার ভোরে তল্লাশি চালিয়ে বনগাঁ এলাকা থেকে রানাকে গ্রেফতার করা হয়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি এই গ্রেপ্তারি তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন রানা বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা করছিল, বাংলাদেশে তার জন্য কেউ অপেক্ষা করছিল কি না, কিংবা সীমান্তের ওপারে কারও সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল কি না, এই প্রশ্নগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, জাল নথি তৈরিতে ধৃত তপসিয়ার বাসিন্দা ছাড়াও আরও কেউ এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী তদন্তে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।


