নয়াদিল্লি: দিল্লিতে আরশোলাদের আন্দোলনে একাধিকবার দেখা গিয়েছে তাঁকে। অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের ‘আপডেট’ ও নিয়েছেন বারবার। কিন্তু ছাত্র আন্দোলনে যখন উত্তাল ঝাড়খণ্ড, তখন বেপাত্তা ‘আম আদমি’ অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)। স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন, ‘বন্ধু’ হেমন্ত না পড়ুয়ারা, কাদের পাশে দাঁড়াবেন তিনি?
এই আবহেই সোমবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানোয় নতুন করে ওঠে প্রশ্ন! পরিস্থিতি সামলাতে মঙ্গলবার অবশেষে মুখ খুললেন কেজরিওয়াল। তবে হেমন্ত সোরেন সরকারকে সরাসরি আক্রমণ না করে তাঁর বার্তা বেশ মেপে দেওয়া। তিনি জানান, ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনরত পড়ুয়াদের দাবিকে তিনি (Arvind Kejriwal) সমর্থন করেন এবং সরকারকে দ্রুত সমস্যার সমাধান করার আবেদন জানাচ্ছেন। একইসঙ্গে স্পষ্ট করেন, পড়ুয়াদের উপর হিংসা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অর্থাৎ, সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি একটি শব্দও নয়, আবার আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশ থেকেও পুরোপুরি সরে যাওয়া নয়। রাজনৈতিক মহলের ভাষায়, যেন দুই নৌকায় পা রেখে জল মাপার চেষ্টা। প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত ঝাড়খণ্ডের নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিক অনিয়মের অভিযোগকে ঘিরে। পড়ুয়াদের দাবি, গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে, প্রয়োজন হলে সিবিআই ও ইডির তদন্ত করতে হবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিল রাখতে হবে। এই দাবিতেই রাঁচিতে আন্দোলনে নামেন পড়ুয়ারা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘাতের অভিযোগ ওঠে।
এই জায়গাতেই কেজরিওয়ালের (Arvind Kejriwal) পুরনো অবস্থানের সঙ্গে তুলনা টানছেন বিরোধীরা। নিটের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রকে নিশানা করার পাশাপাশি যন্তর মন্তরের আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এমনকী পড়ুয়াদের মঞ্চে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও তুলেছিলেন।
কিন্তু ঝাড়খণ্ডে একই ধরনের ক্ষোভের মুখে পড়ে তাঁর সুর অনেকটাই নরম। কারণ, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে কেজরিওয়ালের রাজনৈতিক সম্পর্ক যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ। দু’জনেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছেন। হেমন্তের গ্রেফতারির পর কেজরিওয়ালের (Arvind Kejriwal) স্ত্রী সুনিতা কেজরিওয়ালও রাঁচিতে জেএমএমের সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন।
ফলে কেজরির সামনে বর্তমানে অস্বস্তিকর সমীকরণ, একদিকে পুরনো রাজনৈতিক বন্ধু হেমন্ত, অন্যদিকে আন্দোলনরত পড়ুয়ারা। সরাসরি বন্ধুর সরকারের সমালোচনা করলে রাজনৈতিক সম্পর্কের বার্তা অন্যরকম হতে পারে, আবার পড়ুয়াদের পাশে না দাঁড়ালে তাঁর আগের অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে। অবশেষে মধ্যপন্থাই বেছে নিলেন ‘আম আদমি’ (Arvind Kejriwal)! সরকারের নাম না করে পড়ুয়াদের দাবিকে সমর্থন, আর হিংসার বিরুদ্ধে অবস্থান।
তাই প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে, কেজরির এই একলাইন বার্তা কি নিছক ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানো, নাকি হেমন্তকে অস্বস্তিতে না ফেলে রাজনৈতিক ভারসাম্য রাখার কৌশল? ঝাড়খণ্ডের আন্দোলন যত গড়াবে, সেই উত্তরও তত স্পষ্ট হতে পারে।


