Aaj India Desk, কলকাতা : কলকাতা হাইকোর্টে বড় স্বস্তি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক এফআইআর খারিজের আবেদনের চূড়ান্ত রায় এখনও ঘোষণা হয়নি। তার আগেই মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাস অন্তর্বর্তী ‘নো কোয়ের্সিভ অ্যাকশন’ নির্দেশের মেয়াদ ৩১ অগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে তদন্ত চলতে পারলেও এই সময়ের মধ্যে অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার বা অন্য কোনও জোরজবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশও বহাল রয়েছে।
আদালত স্পষ্ট করেছে, এই পর্যায়ে মূল এফআইআরগুলি খারিজ করা হচ্ছে না। মামলাগুলির বিষয়ে সব পক্ষকে হলফনামা বিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলিকেও পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। মামলাগুলির পরবর্তী শুনানি ২৫ অগস্ট নির্ধারিত হয়েছে। অর্থাৎ, আপাতত রক্ষাকবচ বহাল থাকলেও এফআইআরগুলির বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
‘৪ মে-র আগে কোনও এফআইআর ছিল?’
শুনানিতে মামলাগুলির সময়কাল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠে। বিচারপতি ASG এসভি রাজুর কাছে জানতে চান, ২০২৬ সালের ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে অভিষেকের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের হয়েছিল কি না। আদালতে ASG স্বীকার করেন, ৪ মে-র আগে কোনও মামলা ছিল না। এরপর আদালত পর্যবেক্ষণ করে, অভিষেকের বিরুদ্ধে উল্লিখিত মামলাগুলি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দায়ের হয়েছে।
মোট এফআইআর ১৬টি
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে মোট ১৬টি এফআইআর রয়েছে। এর আগে আদালতে ১১টি মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে। অভিষেকের উদ্যোগে পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির নিয়েও একাধিক এফআইআর রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কালীতলা ও বিষ্ণুপুর থানায় দায়ের হওয়া মামলাগুলির মধ্যে মাটি খনন এবং আম্ফান-পরবর্তী ত্রাণ সংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু ঘটনা ২০১৭, ২০২০-সহ আগের সময়ের। তবে সংশ্লিষ্ট এফআইআরগুলি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর নথিভুক্ত হয়েছে বলে আদালতে বিষয়টি উঠে আসে।
অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনও আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। তবে আপাতত সাময়িক স্বস্তি পেয়েই খুশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।


