Aaj India Desk,কলকাতা: হালিশহরে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)- এর কনভয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। সোমবার দিল্লিতে সংসদ চত্বর থেকে এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকার এবং বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ( Abhishek Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদত ছাড়া এই ধরনের হামলা সম্ভব নয়। এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘মদত’ না থাকলে হামলাকারীরা এতটা সাহস পেত না বলেও দাবি করেন তিনি।
‘বিরোধীদের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে চায়’
অভিষেকের দাবি, বর্তমান সরকার বাংলায় বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করতে চাইছে। তাঁর কথায়, শুধু রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাসা করা নয়, বিরোধী নেতাদের প্রাণহানির আশঙ্কাও তৈরি করা হচ্ছে। রবিবার হালিশহরের ঘটনায় সেটিই আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি তৃণমূল সাংসদের।
তিনি আরও বলেন, হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজনকে অতীতে বিজেপির প্রার্থীর হয়ে প্রচারে দেখা গিয়েছে। শীর্ষ বিজেপি নেতাদের সঙ্গে তাঁদের একাধিক ছবিও রয়েছে বলে দাবি করে সেই ছবি প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরার কথা জানান অভিষেক।
আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ঘোরার অভিযোগ, পুলিশকে নিশানা
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে গত ১৯ জুনের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের পর রাতে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছনোর সময় এক বিজেপি-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা গিয়েছিল। অভিযোগ, এখনও তাকে গ্রেফতার করা হয়নি।
অভিষেকের দাবি, ওই ব্যক্তির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ‘মুখ্যমন্ত্রীর হাত মাথার উপর’ থাকার কারণেই পুলিশ এখনও ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।
‘তৃণমূলকে ভয় পাচ্ছে সরকার’
হালিশহরের ঘটনার সিসিটিভি ও গাড়ির ফুটেজের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, মমতার কনভয় লক্ষ্য করে ইট, পাথর ও কাদা ছোড়ার ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর। তাঁর দাবি, প্রশাসনিক আশ্রয় না থাকলে এমন দুঃসাহস দেখানো সম্ভব নয়।
একইসঙ্গে তৃণমূলের কর্মসূচি ও সভার অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। অভিষেকের বক্তব্য, তৃণমূলের জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক শক্তিকে ভয় পেয়েই সরকার নানা ভাবে বাধা তৈরি করছে।
‘বিরোধীদের কাজ শুধু তৃণমূলকে আক্রমণ করা’
তথাকথিত বিরোধী শিবিরকেও আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, গত দু’মাসে বিজেপি বা সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে ওই বিরোধী দলগুলির কোনও সরব ভূমিকা দেখা যায়নি। বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল এবং তাঁকেই লাগাতার নিশানা করা হচ্ছে।
বিজেপি ও তাদের ‘বি-টিম’ মিলে বাংলাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। অভিষেকের হুঁশিয়ারি, রাজ্যের মানুষ এই ‘চক্রান্তকারীদের’ কখনও ক্ষমা করবেন না।


