Aaj India Desk, কলকাতা : হালিশহরে পুলিশি হেফাজতে মৃত তৃণমূলকর্মী বিরজু কোয়েটের পরিবারকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং তাঁর স্ত্রীকে চাকরির আশ্বাসের প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের আরজি কর-কাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কুণাল বলেন, শুভেন্দু অধিকারী যে আর্থিক সাহায্য করেছেন, তা দেওয়া উচিতই ছিল। তবে একই ধরনের সরকারি ক্ষতিপূরণ নিয়ে অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি তীব্র কটাক্ষ করেন।
‘শুভেন্দু ঠিক করেছেন’
রবিবার হালিশহরে পুলিশি হেফাজতে মৃত তৃণমূলকর্মী বিরজু কোয়েটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন তিনি। মৃতের স্ত্রীকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, টাকা দিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট তহবিল রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গেই কুণাল ঘোষ তাঁর পোস্টে লেখেন, “আমার মতে, শুভেন্দু ঠিক করেছেন। দেওয়া উচিত।”
আরজি করের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন
এর পরেই কুণাল ঘোষ অতীতের আরজি কর-কাণ্ডের প্রসঙ্গ সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্য, একই ধরনের আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ’ বা ‘মুখ বন্ধ করার জন্য টাকা’ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। কুণালের প্রশ্ন, যদি সরকারি নিয়ম মেনে পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করা ঠিক হয়, তাহলে অতীতে একই ধরনের উদ্যোগকে ঘিরে এত বিতর্ক তৈরি হয়েছিল কেন ?
কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) তাঁর পোস্টে দাবি করেন, আরজি করের ঘটনার সময়ও তাঁরা বলেছিলেন যে টাকা দিয়ে কোনও মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না। তবে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাঁর বক্তব্য, “টাকা দিয়ে ক্ষতিপূরণ হয় না। তবু সরকারের কর্তব্য থাকে।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কোন ক্ষেত্রে কত আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে, তার সরকারি নিয়ম রয়েছে এবং এর সঙ্গে ঘুষের কোনও সম্পর্ক নেই।
তাঁর দাবি, অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দেওয়া আর্থিক সাহায্যকে ঘিরে যে সমালোচনা হয়েছিল, তা রাজনৈতিকভাবে করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, সেই সময় সরকারি ক্ষতিপূরণের পক্ষে চিকিৎসকদের একটি সংগঠনও অবস্থান নেয়। তৃণমূল নেতার দাবি, সেই সময়ে তাঁদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়নি এবং ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য নিয়েও ‘কুৎসামূলক প্রচার’ করা হয়েছিল।
বিরজু কোয়েটের মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আর্থিক সাহায্য এবং চাকরির আশ্বাস নতুন রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিলো।


