Aaj lndia Desk,নয়াদিল্লি: চোখের চিকিৎসার জন্য তিন সপ্তাহ বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) । সোমবার তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতারির উপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার সময় কলকাতা হাইকোর্ট অভিষেকের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি।
কূটনৈতিক পাসপোর্টেই বিদেশযাত্রা, জমা দিতে হবে সম্পূর্ণ তথ্য
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চ নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে অভিষেকের বিদেশযাত্রায় অনুমতি দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কূটনৈতিক বা ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট ব্যবহার করেই তাঁকে বিদেশে যেতে হবে।
শুধু তাই নয়, কোথায় যাচ্ছেন, কতদিন থাকবেন এবং বিদেশে তাঁর থাকার ঠিকানা কী এই সংক্রান্ত সম্পূর্ণ ভ্রমণসূচি তদন্তকারী সংস্থার কাছে জমা দিতে হবে। তবে অভিষেকের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জানিয়েছে, এই ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখতে হবে। তা কোনওভাবেই প্রকাশ্যে আনা যাবে না।
‘বিদেশে গিয়ে আর ফিরবেন না’, রাজ্যের আশঙ্কা খারিজ আদালতে
শুনানির শুরুতেই অভিষেকের বিদেশযাত্রার বিরোধিতা করে রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু। তাঁর দাবি, অভিষেকের বিরুদ্ধে বর্তমানে ১৬টি মামলা বিচারাধীন। বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে তিনি দেশে ফিরে নাও আসতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে রাজ্যের সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি শীর্ষ আদালত। শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, প্রত্যেক মানুষের নিজের পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসা পরিষেবা নেওয়া এবং বিদেশে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, যে মামলাকে কেন্দ্র করে এই নিষেধাজ্ঞা তৈরি হয়েছে, সেটি মূলত একটি নির্বাচনী ভাষণ সংক্রান্ত।
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জন্য পাওয়া পাসপোর্টেই যাবেন অভিষেক
অভিষেকের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী জানান, ‘অপারেশন সিঁদুর’ আউটরিচ কর্মসূচির জন্য অভিষেককে ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। বিদেশযাত্রায় তিনি সেই পাসপোর্টই ব্যবহার করবেন।
আইনজীবীর যুক্তি, কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহারের ফলে বিদেশে তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় দূতাবাসগুলির নজরদারি থাকবে। ফলে বিদেশে গিয়ে তাঁর গা-ঢাকা দেওয়ার আশঙ্কার প্রশ্নই ওঠে না। পাশাপাশি অভিষেক একজন বর্তমান সাংসদ এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর পরিবারও দেশে থাকছে বলে আদালতে জানানো হয়।
সরকার বদলের পর একের পর এক মামলা, সওয়াল অভিষেকের
অভিষেকের আইনজীবীর দাবি, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে পরপর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাল্টা রাজ্যের আইনজীবী কটাক্ষ করে জানান, আগের সরকার এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ‘সাহস’ দেখাতে পারেনি।
রাজ্যের তরফে আরও বলা হয়, বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানোর প্রয়োজন আদৌ রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য যে মেডিক্যাল বোর্ড তৈরি হয়েছিল, তার সামনে অভিষেকের হাজির হওয়া উচিত ছিল।
৫ অগস্ট হাইকোর্টে ধাক্কা, সুপ্রিম কোর্টে মিলল স্বস্তি
এর আগে গত ৫ অগস্ট কলকাতা হাইকোর্ট অভিষেকের বিদেশে যাওয়ার আবেদন খারিজ করে দেয়। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা যাচাই করতে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সামনে অভিষেক হাজির হননি।
অভিষেকের পক্ষে আইনজীবী রেবেকা জন অবশ্য জানিয়েছিলেন, আমেরিকার যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অতীতে তাঁর চোখের অস্ত্রোপচার করেছিলেন, তাঁর কাছেই ফের চিকিৎসা করাতে চান তৃণমূল সাংসদ। এসএসকেএম কিংবা আইপিজিএমইআর-এ চিকিৎসা করানোর বিষয়ে তিনি আগ্রহী নন বলেও আদালতে জানানো হয়েছিল।
হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যান অভিষেক। শেষ পর্যন্ত সোমবার শীর্ষ আদালত নির্দিষ্ট শর্তে তাঁর আবেদন মঞ্জুর করায় বিদেশে গিয়ে চোখের চিকিৎসার পথ খুলে গেল তৃণমূল সাংসদের।


