Aaj India Desk, কলকাতা : শুক্রবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে NCPI সাংসদদের প্রাতরাশ বৈঠক এবং কলকাতায় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ঋতব্রত শিবিরের প্রতিনিধিদের বৈঠককে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী রাজনীতিকে দুর্বল করতে বিজেপি এবং তাদের ‘বি-টিম’-এর মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা বা ‘সেটিং’ চলছে। একই সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।
দুই বৈঠককে একসঙ্গে টেনে কুণালের দাবি, বিরোধী রাজনীতিকে দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিজেপির বি-টিমের বিশ্বাসঘাতক নম্বর ১ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন, আর বি-টিমের বিশ্বাসঘাতক নম্বর ২-এর এজেন্টরা নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন।”
NCPI-কে আক্রমণ করে কুণাল (Kunal Ghosh) আরও দাবি করেন, দলটি বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে দিশাহীন অবস্থায় রয়েছে। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং আইনি ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও সরব হন কুণাল। তাঁর দাবি, ওই নেতাদের রাজনৈতিক কেরিয়ার কার্যত শেষের দিকে। কুণালের কথায়, “ওঁরা এলাকার সাধারণ মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছেন। ভবিষ্যতে যখন বাংলার মানুষের সামনে যাবেন, মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবেন।”
শুধু রাজ্যস্তরের নেতাদের নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও আক্রমণ করেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের সাক্ষাৎ ও ছবি তোলার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন তোলেন তিনি। কুণালের অভিযোগ, নিচুতলার নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার বা সাসপেন্ড করার আগে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা উচিত। কুণাল ঘোষের আরও অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে এমন একটি ‘অনুগত বিরোধী দল’ তৈরি করার চেষ্টা করছে বিজেপি, যারা ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে কার্যকর রাজনৈতিক লড়াই করার মতো অবস্থায় থাকবে না।
উল্লেখ্য, দিল্লির প্রাতরাশ বৈঠক এবং নবান্নের বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এবার এই দুই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূল বিধায়কের এমন আক্রমণ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে ফের নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


