Aaj India Desk, বাঁকুড়া : বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটিতে এবার মৃতা আশাকর্মী রুম্পা মণ্ডলের পরিবারের পাশে দাঁড়ালো কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। শুক্রবার সকালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এই সফর করেন দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) ও দোলা সেন। এছাড়াও গণমঞ্চের সুমন ভট্টাচার্য এবং রন্তিদেব সেনগুপ্ত সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর এলাকার তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গেও ঘরোয়া আলোচনা হয়।
কী কী দাবি তৃণমূলের?
মৃতার পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে চার দফা দাবি জানায় কালীঘাট তৃনমূল। এর মধ্যে বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরির ক্ষমা চাওয়া থেকে শুরু করে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তোলা হয়।
- মৃতা আশা কর্মী রুম্পা মণ্ডলের পরিবারের একজনকে বিকল্প চাকরি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তৃণমূল। পাশাপাশি পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং রুম্পার কন্যার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতারও দাবি তোলা হয়েছে।
- আশা কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং কুশব্দ প্রয়োগের অভিযোগ তুলে বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরির প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে তৃণমূল।
- আশা কর্মীদের নির্ধারিত কাজের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর বাড়তি কাজের চাপ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই সমস্যার সুরাহা করে কাজের চাপ কমানোর দাবি জানিয়েছে তৃণমূল।
- বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবার সমস্যা এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত ঘাটতি দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল।
ঋতব্রত শিবিরকে নিশানা কুণালের
রুম্পা মণ্ডলের মৃত্যুর পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বা ঋতব্রত শিবিরের কেউই মৃতার পরিবারের সাথে দেখা করতে যাননি। ফলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর শিবিরকে নিশানা করেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল বিপন্ন মানুষের পাশে থাকে, অন্যদিকে ঋতব্রতরা বিজেপি নেতাদের পাশে থাকে।
উল্লেখ্য, গত ৩ আগষ্ট গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লকের গোপীনাথপুর এলাকার আশাকর্মী রুম্পা মণ্ডলের মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, সকালে বাড়িতে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন রুম্পা। তাঁকে অমরকানন গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সহকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের ই-কেওয়াইসি-সহ অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং প্রশিক্ষণের ঘাটতি তাঁর উপর মানসিক চাপ তৈরি করেছিল। এর আগে বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরি তাঁর বিরুদ্ধে চুরি করে কাজ পাওয়ার অভিযোগও তোলেন। ঘটনার জেরে চন্দনা বাউরির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে আশাকর্মীদের মধ্যে। এবার আশাকর্মীদের অতিরিক্ত কাজের চাপ, পরিকাঠামোগত সমস্যা এবং তৃনমূলের দাবিগুলির বিষয়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর।


