Aaj lndia Desk, নয়াদিল্লি: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মামলায় আবারও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, বকেয়া ডিএ পরিশোধ সংক্রান্ত মনিটরিং কমিটির রিপোর্ট আগামী দু’দিনের মধ্যে মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পক্ষের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ই-মেল বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমের মাধ্যমে এই রিপোর্ট পাঠাতে হবে, যাতে মামলার পরবর্তী শুনানির আগে সব পক্ষ রিপোর্টটি খতিয়ে দেখার সুযোগ পায়।
শীর্ষ আদালত আগামী ১৮ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। ওই দিন মনিটরিং কমিটির রিপোর্ট, রাজ্য সরকারের আবেদন এবং কর্মচারী সংগঠনগুলির বক্তব্য একসঙ্গে বিবেচনা করে বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা ৬০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার চলতি বাজেটে পূর্বঘোষিত ডিএ-র সঙ্গে আরও ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করায় অগস্ট মাস থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। তবুও কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র মধ্যে এখনও ২২ শতাংশের ব্যবধান রয়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মূল রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, কর্মচারীদের প্রাপ্য বকেয়া সম্পূর্ণটাই রাজ্য সরকারকে পরিশোধ করতে হবে। আদালত প্রথমে ২৫ শতাংশ বকেয়া অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি বাকি ৭৫ শতাংশ কীভাবে সরকারের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না ফেলে ধাপে ধাপে পরিশোধ করা যায়, তা নির্ধারণের জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়।
বৃহস্পতিবারের শুনানিতে আদালত জানতে চায়, আগের নির্দেশ কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, কর্মচারীদের হাতে কত টাকা পৌঁছেছে এবং অবশিষ্ট বকেয়া কীভাবে মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই সমস্ত তথ্য-সহ পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আগামী দু’দিনের মধ্যে সব পক্ষকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে, বিচারবিভাগের নির্দেশ মেনেই সরকার বকেয়া ডিএ পরিশোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কারণে ১০০ শতাংশ বকেয়া একসঙ্গে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তাই আদালতের কাছে ৮৫ শতাংশ বকেয়া পরিশোধের অনুমতি এবং বাকি ১৫ শতাংশ মকুবের আবেদন জানিয়েছে রাজ্য।
রাজ্যের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ বাবদ মোট ১১,৯৮৩ কোটি টাকার দায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ৭,৭৭১ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাকি অর্থ তিনটি ধাপে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তি ২০২৭ সালের জানুয়ারি, তৃতীয় কিস্তি ২০২৭ সালের জুলাই এবং শেষ কিস্তি ২০২৮ সালের জানুয়ারি মাসে দেওয়া হবে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
তবে এই দাবি মানতে নারাজ কর্মচারী সংগঠনগুলি। কর্মচারীদের এক যৌথ মঞ্চের পক্ষে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতে অভিযোগ করেন, সরকার বকেয়া মেটানোর দাবি করলেও বাস্তবে তাঁদের মক্কেলরা এখনও পর্যন্ত এক টাকাও পাননি। রাজ্য সরকার, কর্মচারী সংগঠন এবং মনিটরিং কমিটির বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ১৮ অগস্টের শুনানিতেই মামলার সমস্ত দিক পর্যালোচনা করে রাজ্যের আবেদন ও বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই ওই দিনের শুনানির দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা।


