Aaj India Desk, নয়া দিল্লি: আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বিল (Delimitation Bill) পাস করাতে মরিয়া মোদী সরকার। ফলে বাদল অধিবেশনের মধ্যেই লোকসভার তিন দিনের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকতে চলেছে কেন্দ্র। সাংবিধানিক সংশোধনী হওয়ায় বিলটি পাস করাতে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই বিরোধী দলগুলির সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে বিজেপি। একই অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ বিলও পেশ করা হতে পারে বলে সরকারি সূত্রের দাবি।
কবে হবে এই বিশেষ অধিবেশন ?
সরকারি সূত্রের খবর, ১৬ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত চলতে পারে লোকসভার বিশেষ অধিবেশন। এই অধিবেশনের মূল লক্ষ্য হবে ডিলিমিটেশন বিল সংসদে পেশ ও তা পাস করানো। পাশাপাশি মহিলা সংরক্ষণ বিলও আলোচনার জন্য আনা হতে পারে।
দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের কঠিন অঙ্ক
ডিলিমিটেশন বিল (Delimitation Bill) সাংবিধানিক সংশোধনী হওয়ায় এটি পাস করাতে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। শুরু থেকেই বিরোধী দলগুলি এই বিলের বিরোধিতা করে আসছে। ফলে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করাই এখন সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
রাহুলের সঙ্গে বৈঠকে অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা
সংসদের অচলাবস্থার মধ্যেই বুধবার কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় ৫০ মিনিটের ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাও। কংগ্রেস সূত্রের খবর, বৈঠকে ডিলিমিটেশন বিল (Delimitation Bill) নিয়ে আলোচনা হয়। তবে দলটি এখনও এই বিল সমর্থনের পক্ষে নয় বলেই জানা গিয়েছে।
তবে কংগ্রেস সমর্থন না দিলেও ডিএমকে যদি শেষ পর্যন্ত বিলটির বিরোধিতা না করে, তাহলে সরকারের প্রয়োজনীয় সংখ্যার বড় অংশ পূরণ হতে পারে। যদিও তাতেও পুরো সমীকরণ মেলানো সহজ হবে না। তাই কয়েকজন বিরোধী সাংসদের ক্রস ভোটিং অথবা ভোটদানে বিরত থাকার সম্ভাবনাও রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে। বিলটি সংসদে ওঠার আগে পর্যন্ত সংখ্যার অঙ্ক নিয়ে জোর তৎপরতা চলবে।
উল্লেখ্য, ডিলিমিটেশন নিয়ে তামিলনাড়ুসহ দক্ষিণের একাধিক রাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছে। তাদের আশঙ্কা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলির লোকসভায় প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কমে যেতে পারে। সেই কারণেই এই ইস্যুতে ডিএমকের অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


