নয়াদিল্লি: ভারতীয় মুদ্রা ব্যবস্থায় আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের আলোচনার পর এবার ১০ ও ২০ টাকার পলিমার (প্লাস্টিক) নোট (Polymer notes) পরীক্ষামূলকভাবে বাজারে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-র প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন মিলেছে। ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে যেতে পারে নতুন ধরনের এই নোট।
কোন কোন নোটে হবে পরীক্ষা?
মোদী সরকার সংসদে জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে ১০ ও ২০ টাকার মোট ১০০ কোটি পলিমার নোট (Polymer notes) ছাপিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে বাজারে ছাড়া হবে। এই পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে প্লাস্টিকের নোট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানান, ২০২৮ অর্থবর্ষের শুরুতে পলিমার নোট চালুর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে ২০২৭ সালের এপ্রিলের কাছাকাছি সময়ে এই নোট (Polymer notes) বাজারে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুরনো কাগজের নোট কি বন্ধ হয়ে যাবে?
এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমানে প্রচলিত ১০ ও ২০ টাকার কাগজের নোট প্রত্যাহারের কোনও পরিকল্পনা নেই। অর্থাৎ, নতুন পলিমার নোট চালু হলেও কাগজের নোট বৈধ থাকবেই। আপাতত কাগজের নোটের পাশাপাশি প্লাস্টিকের নোটও (Polymer notes) প্রচলনে থাকবে। সরকার জানিয়েছে, বিদ্যমান কাগজের নোটকে সম্পূর্ণভাবে পলিমার নোট দিয়ে প্রতিস্থাপনের কোনও প্রস্তাব এখন নেই।
কেন প্লাস্টিকের নোট?
পলিমার নোট কাগজের নোটের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই। সহজে ছিঁড়ে যায় না, ভিজলেও দ্রুত নষ্ট হয় না এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে, ১০ ও ২০ টাকার কাগজের নোট সবচেয়ে বেশি হাতবদল হওয়ায় দ্রুত জীর্ণ হয়ে যায়। ছেঁড়া বা নষ্ট নোট নিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হয়।
এই কারণেই বহুদিন ধরেই ছোট মূল্যের নোটে পলিমার (Polymer notes) প্রযুক্তি ব্যবহারের ভাবনা চলছিল। সেই প্রস্তাব আরবিআই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠায় এবং তাতে অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। এখন নজর পরীক্ষামূলক প্রকল্প কতটা সফল হয়, তার উপরই নির্ভর করবে দেশে প্লাস্টিকের নোটের ভবিষ্যৎ।


