নয়াদিল্লি: গত ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির ‘সংসদ চলো’ অভিযানে (CJP Protest) পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো, আন্দোলনকারীদের বলপূর্বক রোখার চেষ্টা এমনকি ছররা গুলি চালানোর অভিযোগে তোলপাড় দেশ। এই ঘটনায় এখনও অভিযোগ জানিয়ে আসছে ককরোচ জনতা পার্টি। এবার সিজেপির অভিযানে পুলিশি নৃশংসতার অভিযোগ ঘিরে কেন্দ্রকে কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাষ্ট্রের ক্ষমতার দোহাই দিয়ে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কখনও পরিস্থিতির সমাধান করে না, বরং তা আরও জটিল করে তোলে। আদালত জানায়, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংলাপ ও তাঁদের বক্তব্য শোনার বিকল্প নেই। বিক্ষোভ ঘিরে অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের (CJP Protest) ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, মহিলা আন্দোলনকারীদের মারধরের অভিযোগও সামনে এসেছে। এমনকি ভিড় নিয়ন্ত্রণের নামে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) পেলেট গান বা ছররা বন্দুক ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জানা গিয়েছে, সংসদ ভবন অভিযানের সময় ভিড় সামলাতে দিল্লি পুলিশ সিআরপিএফের র্যাফ মোতায়েন করেছিল। তবে অভিযোগ, কোনও সতর্কবার্তা না দিয়েই র্যাফ লাঠিচার্জ শুরু করে, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং পরে পেলেটও ব্যবহার করে। অভিযোগ ঘিরে মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, রাষ্ট্রের ক্ষমতার নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং তার ফলে আরও হিংসা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
মঙ্গলবার ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ সংক্রান্ত একাধিক মামলার একসঙ্গে শুনানি হয়। মামলাকারীদের একাংশের দাবি ছিল, বিক্ষোভে অশান্তির জন্য আয়োজকদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের (CJP Protest) অন্তত সাত দিনের জন্য সমাজসেবামূলক কাজ করার নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানানো হয়।
শুনানির সময় সুপ্রিম (Supreme Court) কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে, “রাষ্ট্রের নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাতে আরও হিংসা ছড়াতে পারে।” গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে আদালত আরও বলে, “গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার সবার আছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলিকে আরও ধৈর্য দেখাতে হবে।”
শীর্ষ আদালতের মতে, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে বলপ্রয়োগের বদলে সংলাপই সবচেয়ে কার্যকর পথ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “এই ধরনের হিংসাত্মক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হল শোনা। তাঁরা কী বলতে চাইছে, সেটা জানা। এরা আসলে যুব সমাজ। ওদের অনেক পরামর্শ দরকার।” একই সঙ্গে আদালত (Supreme Court) স্পষ্ট করে দেয়, রাষ্ট্রের নামে যদি কারও উপর আগ্রাসন নেমে আসে, তাহলে বিক্ষোভকারীদের (CJP Protest) একাংশ অহেতুক হিংসার পথ বেছে নিতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতি এড়ানো প্রয়োজন।
তবে সুপ্রিম কোর্ট এটাও জানিয়ে দিয়েছে, মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীকেই নিতে হবে। অর্থাৎ, আদালত একদিকে যেমন সংযম ও সংলাপের উপর জোর দিয়েছে, তেমনই নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব ও বিবেচনার গুরুত্বও স্বীকার করেছে।


