Aaj India Desk, কলকাতা : প্রাক্তন মন্ত্রী ডাঃ শশী পাঁজাকে (Shashi Panja) ঘিরে চলা দলবদলের জল্পনার মধ্যেই এবার মুখ খুললেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সামাজিক মাধ্যমে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বিভ্রান্তিকর প্রচারে সাড়া না দেওয়ার আহ্বান জানালেন তিনি। তিনি জানান, শশী পাঁজা নিজে বা কোনও দায়িত্বশীল ব্যক্তি স্পষ্ট বক্তব্য না দেওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য না করাই উচিত।
কী বললেন কুনাল ঘোষ?
সোমবার সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে কুণাল ঘোষ লেখেন, ডাঃ শশী পাঁজাকে (Shashi Panja) নিয়ে কোনও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের সাড়া দেওয়া উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, ভোটের পর শশী পাঁজা কিছুদিন ছোট মেয়ের কাছে ছিলেন এবং বর্তমানে চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিনের পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন।
অজিত পাঁজার প্রসঙ্গ তুলে ঢাল
ডাঃ শশী পাঁজা (Shashi Panja) হলেন প্রয়াত অজিত কুমার পাঁজার পুত্রবধূ। তিনি অজিত পাঁজার ছেলে ডাঃ প্রসূন কুমার পাঁজাকে বিয়ে করেছেন। অজিত পাঁজা ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং দলের প্রথম চেয়ারপারসনও ছিলেন।
এই কথা মনে করিয়ে পোস্টে কুণাল উল্লেখ করেন, শশী পাঁজা যে পরিবারের সদস্য, সেই পরিবারের অন্যতম ব্যক্তি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ফলে শশী পাঁজাকে নিয়ে গুজব না ছড়ানোই উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কীভাবে শুরু হয় দলবদলের জল্পনা?
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শ্যামপুকুর কেন্দ্র থেকে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই শশী পাঁজার রাজনৈতিক সক্রিয়তা অনেকটাই কমে যায়। এরই মধ্যে ২ আগস্ট তিনি ভবানীপুরে চিকিৎসক কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ফার্টিলিটি ক্লিনিকে যান। পরদিন কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, শশী পাঁজা খুব শীঘ্রই তৃণমূল ছাড়তে চলেছেন। পরে সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। এরপর থেকেই তাঁর সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়।
যদিও, শশী পাঁজার ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ক্লিনিকে যাওয়ার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি বহু বছর ধরেই ওই প্রতিষ্ঠানে পেশাগত কারণে যান।দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ভোটে হারের পর তিনি আপাতত চিকিৎসা পেশাতেই মনোযোগ দিতে চান এবং এই বিষয়টি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জানিয়েছেন।


