Aaj India Desk, কলকাতা: রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল নেতা ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আমলে চালু হওয়া একাধিক জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের নাম বদলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, নতুন সরকার নিজেদের নতুন কোনও উদ্যোগ দেখাতে না পেরে পুরনো সফল প্রকল্পগুলির নাম পরিবর্তন করে কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে নাম বদলালেও মানুষের মন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান মুছে ফেলা যাবে না বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
কন্যাশ্রী ও সবুজ সাথী নিয়ে প্রশ্ন
কুণাল ঘোষ বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের নাম বদলানোর খবর সামনে আসছে এবং তাঁর দল এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কন্যাশ্রী প্রকল্পের নাম কন্যারত্ন এবং সবুজ সাথী প্রকল্পের নাম সারথী করার পরিকল্পনা চলছে।
তিনি বলেন, কন্যাশ্রী শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবনা থেকে তৈরি একটি উদ্যোগ, যা দেশ-বিদেশে প্রশংসা পেয়েছে। তাই শুধু নাম বদলে দিলেই মানুষ এই প্রকল্পের ইতিহাস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান ভুলে যাবে না।
সবুজ সাথী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রামের বহু ছাত্র-ছাত্রী এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাইকেল পেয়েছিল। এমনও দেখা গেছে, যাঁরা তৃণমূলের বিরোধিতা করে মিছিলে অংশ নিয়েছেন, তাঁরাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া সবুজ সাথীর সাইকেল ব্যবহার করেছেন।
স্বাস্থ্যসাথী বনাম আয়ুষ্মান ভারত
স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়েও সরব হন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, ভোটের আগে বিজেপি নেতারা রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলেন। কিন্তু স্বাস্থ্যসাথীর মতো সবার জন্য সমান সুবিধা আয়ুষ্মান ভারতে নেই, সেখানে বিভিন্ন শর্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, এখন যাঁরা আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন না, তাঁদের জন্য আবার রাজ্য সরকার পাঁচ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমার কথা বলছে। অথচ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে এই সুবিধা আগেই ছিল। তাই নতুন করে একই ধরনের ঘোষণা করার প্রয়োজন কোথায়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এছাড়াও তাঁর অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পে পরিবর্তন আনার ফলে উপভোক্তার সংখ্যা কমেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
নাম বদলের রাজনীতি নিয়ে কটাক্ষ
কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে কুণাল ঘোষ বলেন, বিজেপি আগে দেশের বিভিন্ন রাস্তা, স্টেশন ও সরকারি প্রকল্পের নাম বদল করেছে, এখন রাজ্যেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, এতে প্রমাণ হয় আগের সরকারের প্রকল্পগুলি মানুষের কাছে সফল ও গ্রহণযোগ্য ছিল। নতুন সরকারের নিজের কোনও উল্লেখযোগ্য প্রকল্প না থাকায় পুরনো প্রকল্পের নাম বদল করেই প্রচারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে মানুষের মনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের স্বীকৃতি অটুট থাকবে বলেই তিনি দাবি করেন।


