Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (PM Narendra Modi) নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার পর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া ১৫ বছরের কিশোরীর পরিবার এখনও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এবার কিশোরীর মা সামনে এসে জানান, তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার করা হোক, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং তাঁদের থাকার জন্য নিরাপদ জায়গার ব্যবস্থা করা হোক। একইসঙ্গে তিনি আবেগঘন আবেদন জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেন তাঁর মেয়েকে দত্তক নেন।
উল্লেখ্য, গতকাল দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, এই ঘটনায় জড়িত “পথভ্রষ্ট শিশুদের” ক্ষমা করে তাদের সঠিক পথে ফেরানোর চেষ্টা করা উচিত। তাঁদের আইনি বা সামাজিকভাবে হয়রানি না করারও আহ্বান জানান তিনি। সেই বক্তব্যের পরদিনই কিশোরীর মায়ের এই আবেদন সামনে এল।
এর আগে ওই কিশোরী দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানায়। সে জানায়, তার কাছ থেকে বড় ধরনের ভুল হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একজন দায়িত্বশীল ও ভালো নাগরিক হিসেবে জীবন কাটানোর চেষ্টা করবে।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কিশোরীর মা জানান, এই ঘটনার পর তাঁদের স্বাভাবিক জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে। তিনি বলেন, “পুলিশের কারণেই আমরা এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। আমরা যে এলাকায় থাকতাম, সেখানে কিংবা নিজের বাড়ির আশপাশেও আর থাকতে পারছি না।” তিনি আরও বলেন, পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি থাকার জন্য নিরাপদ জায়গার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এফআইআর তুলে নেওয়ার আবেদন
কিশোরীর মায়ের দাবি, তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি। তিনি বলেন, “এফআইআর এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি। আমরা অনুরোধ করছি, এটি তুলে নেওয়া হোক।”
মেয়ের ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “আমাদের থাকার জন্য একটি জায়গা দেওয়া হোক। প্রধানমন্ত্রী আমার মেয়েকে দত্তক নিন। আমার মেয়ের বাবা আর বেঁচে নেই, কিন্তু তার অধিকার রয়েছে। প্রতিটি মেয়েই তার বাবার বাড়িতে নিজের জায়গা পায়। আমার মেয়ে ও ছেলে একই বাড়িতে একসঙ্গে থাকবে এবং তাদের প্রাপ্য অধিকার পাবে। যদি সে নিজের বাড়িতে থাকতে পারত…”
ধর্ষণ ও খুনের হুমকির অভিযোগ
কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ের ভুলকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই অশালীন ও হিংসাত্মক মন্তব্য করছেন। তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখুন, কী ধরনের নোংরা মন্তব্য করা হচ্ছে। যারা একটি ১৫ বছরের মেয়েকে বলছে চারজন মিলে তাকে ধর্ষণ করুক, তারা কি ঠিক করছে? তাদের আইডি সব রয়েছে। আমার মেয়ে একটি ভুল করেছে, কিন্তু আপনারা যে এত জঘন্য মন্তব্য করছেন, তা কি ঠিক?”
এরপর তিনি বলেন, “আমার মেয়ে যদি বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিত এবং দেশের জন্য প্রাণ দিত, তাহলে আমি গর্বিত হতাম। কিন্তু আজ আমি খুশি নই যে কিছু মানুষ একটি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দিচ্ছে।”
পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কিশোরীর মা বলেন, তাঁদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করা দরকার। তাঁর আশঙ্কা, ভবিষ্যতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হতে পারে।
তিনি বলেন, “আমি চাই আমাদের নিরাপদ জায়গায় রাখা হোক। আগামীকাল যদি আমাদের কিছু হয়, তাহলে কেউ যেন প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে কিছু না বলে। এখন যদি আমাদের কোনও ক্ষতি হয়, সমাজবিরোধীরা সরাসরি বলবে যে নরেন্দ্র মোদি বা তাঁর সমর্থকেরা এর পিছনে রয়েছে। আমাদের নিরাপত্তা দরকার। আমার মেয়ের বাবার বাড়িতে থাকার অধিকার রয়েছে। কেন সে তার বাবার বাড়ি থেকে বঞ্চিত হবে?”
দ্বিতীয়বার ক্ষমা চাইল কিশোরী
প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তার পর কিশোরী দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়। নিজের বক্তব্যে সে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলে, তাঁর এবং তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করার পরও প্রধানমন্ত্রী তাকে ক্ষমা করেছেন। সে স্বীকার করে, “বিরাট ভুল” করেছে এবং সেই ভুলের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছে। পাশাপাশি জানায়, তার এই আচরণে শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, দেশের কোটি কোটি মানুষের মনেও আঘাত লেগেছে।


