27.7 C
Kolkata
Sunday, August 2, 2026
spot_img

‘ককরোচ’ আন্দোলনের ভিড়ে নাশকতার পরিকল্পনা? হামিমের ‘ডাবল টার্গেট’-এর দাবি STF-এর

নয়াদিল্লি: শুধু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীই নয়, ধৃত হামিম মণ্ডলের (Hamim Mondal) টার্গেট ছিল দিল্লিও! সিজেপির আন্দোলনের (CJP Protest) মাঝে পুলিশ সেজে নাশকতার ছক ছিল জঙ্গি হামিমের! শনিবার ভবানীভবনে সাংবাদিক বৈঠকে STF-এর আইজি গৌরব শর্মা জানান, পাকিস্তানের জঙ্গি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে হামিম দীর্ঘদিন ধরে ভারতে একটি নাশকতার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

STF-এর দাবি, প্রায় চার বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয় ছিল হামিম (Hamim Mondal)। সম্প্রতি হাওড়ার এক মন্ত্রীর ছেলেকে অপহরণের হুমকির তদন্তে নেমেই তার খোঁজ পায় পুলিশ। গ্রেফতারের পর তার মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস এবং এনক্রিপ্টেড চ্যাট বিশ্লেষণ করে পাকিস্তানের জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক সূত্র মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।

গৌরব শর্মার কথায়, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রাম-সহ এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত হামিম। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে বলে দাবি, আমেরিকা, মেক্সিকো-সহ বিভিন্ন দেশের সিম ব্যবহার করে নজরদারি এড়ানোর চেষ্টা করা হত। এমনকি পাকিস্তান থেকে তার অ্যাকাউন্টে অর্থও এসেছে বলে জানিয়েছে STF।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি, দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের ভিড়ে পুলিশের পোশাক পরে মিশে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা ছিল। তদন্তকারীদের বক্তব্য, সেই উদ্দেশ্যে পুলিশের ইউনিফর্মও তৈরি করা হয়েছিল। যদিও হামিম (Hamim Mondal) নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার কথা ছিল, নাকি অন্য কাউকে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল, তা এখনও তদন্তাধীন। কী ধরনের হামলার ছক কষা হয়েছিল এবং তার লক্ষ্য কী ছিল, সে বিষয়েও এখনও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি বলে জানিয়েছেন STF-এর আইজি।

তদন্তকারীদের অনুমান, পরিকল্পনা সফল হলে আন্দোলনের (CJP Protest) আবহে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর দায় চাপিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলার চেষ্টা হতে পারত। তবে এই সম্ভাব্য পরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ সংগ্রহ এবং এর সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামিমের সহযোগী, অর্থের উৎস এবং পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের বিস্তার নিয়েও তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। যন্তর মন্তরের আন্দোলনের সঙ্গে কোনও জঙ্গি নাশকতার যোগ ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি তদন্তকারী সংস্থা। STF-এর দাবি ও উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে, এবং বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন