কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) টার্গেট করে নজরদারির নির্দেশ এসেছিল পাকিস্তান থেকে! ধৃত জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে STF-এর আইজি গৌরব শর্মা জানান, তদন্তে হামিমের পাকিস্তানি জঙ্গি চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক সূত্র মিলেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) গতিবিধির উপর নিয়মিত নজর রাখা এবং সেই তথ্য বিদেশে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তার অন্যতম দায়িত্ব। STF-এর দাবি, হামিমের সঙ্গে পাকিস্তানের কুখ্যাত ‘শেহজাদ ভাট্টি’ গ্যাংয়ের যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। তদন্তকারীদের মতে, সীমান্তের ওপার থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হত। সেই সূত্র ধরেই তাকে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশ দেওয়া হতো। তদন্তে এমনও উঠে এসেছে যে, রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংবেদনশীল স্থানের উপর নজরদারির দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছিল বলে সন্দেহ।
তদন্তকারীদের বক্তব্য, হামিমের ডিজিটাল ডিভাইস, যোগাযোগের নথি এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে তার যোগাযোগের পরিধি কতটা বিস্তৃত ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা। একইসঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, সে একাই কাজ করছিল নাকি পশ্চিমবঙ্গে আরও কোনও সক্রিয় নেটওয়ার্কের অংশ ছিল।
STF সূত্রে খবর, এই ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে রেখে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গেও তথ্য আদানপ্রদান চলছে। হামিমকে জেরা করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা তদন্তকারীদের। পাকিস্তান-যোগ, জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) সম্ভাব্য মডিউল এবং মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে নজরদারির অভিযোগ, সব মিলিয়ে ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েই দেখছে নিরাপত্তা মহল।
তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং হামিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে বিচারাধীন। STF-এর দাবি যাচাই করতেই তদন্তের পরবর্তী ধাপে জোর দিচ্ছেন গোয়েন্দারা।


