Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: নিট-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের (NEET Paper Leak) ঘটনাকে কেন্দ্র করে হওয়া ছাত্র আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা (Dharmendra Pradhan Resigned) হলেও বিতর্ক থামেনি। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) সাম্প্রতিক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওকে ঘিরে নতুন করে আক্রমণ শানিয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে (Abhijeet Dipke)।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী একটি ভিডিও বার্তায় আন্দোলনের সময় তাঁকে এবং তাঁর প্রয়াত মাকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করা কিছু তরুণ-তরুণীকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা জানান। সেই ভিডিওর মন্তব্যের ঘরেই অভিজিৎ দিপকে প্রশ্ন তোলেন, এই ক্ষমা কি শুধুই কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ, নাকি আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুলিশি মামলাগুলিও প্রত্যাহার করা হবে?
উল্লেখ্য, যন্তর মন্তর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলা ছাত্র আন্দোলনের সময় নয়ডার ১৫ বছরের এক কিশোরী-সহ কয়েকজন পড়ুয়ার প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। এরপর ওই কিশোরীর বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জেন-জি প্রজন্মের উদ্দেশে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “কিছু তরুণ-তরুণী আমার বিরুদ্ধে এবং আমার প্রয়াত মাকে নিয়েও অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করেছে। কিন্তু শুধু শাস্তি দিয়ে বা আদালতে টেনে নিয়ে গিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। আমি তাদের ক্ষমা করতে চাই। যারা ভুল পথে চলে গিয়েছে, তাদের সঠিক পথ দেখানোই আমাদের দায়িত্ব।”
এর আগেও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নতুন কঠোর আইন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। সেই পোস্টে মন্তব্য করে অভিজিৎ দিপকে কটাক্ষ করে লিখেছিলেন, “দেশের ভবিষ্যতের চেয়ে আপনার গায়ের চামড়া অনেক বেশি উজ্জ্বল!”
এদিকে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া FIR এবং অন্যান্য মামলাগুলি এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি। এই বিষয়টিকেই এখন কেন্দ্র করে নতুন করে সরব হয়েছে সিজেপি। দিপকের দাবি, শুধুমাত্র ভিডিও বার্তায় ক্ষমার কথা বললে হবে না, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে হওয়া সব মামলা অবিলম্বে তুলে নিতে হবে।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং অভিজিৎ দিপকে আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি নেতা বা তাদের আইটি সেলের সদস্যরা আপত্তিকর মন্তব্য করলেও প্রশাসন অনেক সময় নীরব থাকে। অথচ একজন ১৫ বছরের কিশোরী আবেগের বশে মন্তব্য করায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, দেশে কি সাধারণ মানুষ ও বিজেপি নেতাদের জন্য আলাদা আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে?
এদিকে, সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছে, যেসব আন্দোলনকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক অথবা যাদের বিরুদ্ধে আগে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহার করে মুক্তি দিতে হবে। তবুও যদি আন্দোলনকারীদের হয়রানি বন্ধ না হয়, তাহলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।


