Aaj India Desk, কলকাতা: সারোগেসির (Surrogacy) মাধ্যমে সন্তান নিতে চাওয়া কোনও দম্পতির বয়স, শারীরিক অবস্থা বা চিকিৎসাগত যোগ্যতা বিচার করা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব নয়। এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court) জানিয়ে দিয়েছে, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল বোর্ডের (Medical Board)। এই মন্তব্যের পাশাপাশি আলিপুর আদালতের অতিরিক্ত জেলা বিচারকের একটি নির্দেশও বাতিল করেছেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। একই সঙ্গে, আইন মেনে আবেদনটি ফের খতিয়ে দেখে আগামী সাত দিনের মধ্যে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে।
মামলার সূত্রপাত দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক দম্পতিকে ঘিরে। সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার জন্য তাঁরা জেলা মেডিক্যাল বোর্ডের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সব শংসাপত্র সংগ্রহ করেন। এরপর আইনি অনুমতির জন্য আলিপুর আদালতে আবেদন করেন। কিন্তু অতিরিক্ত জেলা বিচারক তাঁদের আবেদন খারিজ করে দেন।
আবেদন খারিজের ক্ষেত্রে তিনটি কারণ দেখানো হয়েছিল। প্রথমত, মেডিক্যাল শংসাপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয়ত, সারোগেট মায়ের মানসিক সুস্থতা সংক্রান্ত নথিতে ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তৃতীয়ত, আবেদনকারী পিতার বয়স ৫৫ বছরের বেশি হওয়াকেও কারণ হিসেবে ধরা হয়।
এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দম্পতি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৌশিক চন্দ বলেন, সারোগেসি আইন অনুযায়ী আবেদনকারী দম্পতির বয়স, স্বাস্থ্য বা চিকিৎসাগতভাবে তাঁরা উপযুক্ত কি না, তা যাচাই করার দায়িত্ব মেডিক্যাল বোর্ডের। ম্যাজিস্ট্রেট এই বিষয়গুলো নিয়ে আলাদা করে মূল্যায়ন করতে পারেন না বা নিজের মত চাপিয়ে দিতে পারেন না।
আদালত আরও স্পষ্ট করে জানায়, সারোগেসি সংক্রান্ত মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকা সীমিত। তাঁকে শুধু নিশ্চিত করতে হবে যে সারোগেট মা কোনও চাপ, ভয় বা প্রতারণার শিকার না হয়ে নিজের ইচ্ছায় সম্মতি দিয়েছেন। পাশাপাশি শিশুর জন্মের পর তার আইনগত অভিভাবকত্ব ও দায়িত্ব কার ওপর থাকবে, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
মেডিক্যাল শংসাপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়েও হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে। আদালতের মতে, বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় যদি শংসাপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তাহলে সেই কারণ দেখিয়ে আবেদন বাতিল করা আইনসম্মত নয়।
সব দিক বিবেচনা করে হাইকোর্ট আলিপুর আদালতের আগের নির্দেশ বাতিল করেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে আইন অনুযায়ী আবেদনটি নতুন করে বিবেচনা করে আগামী সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে সারোগেসি সংক্রান্ত মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার সীমা আরও স্পষ্ট হল। একই সঙ্গে চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মেডিক্যাল বোর্ডের ভূমিকাই যে চূড়ান্ত, সেটিও আবার স্পষ্ট করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।


