কলকাতা: চরম আর্থিক সংকটে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব মহামেডান স্পোর্টিং (Mohammedan Sporting Club)। তার উপর মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়ালো হুমায়ুন কবিরের দেওয়া চেক বাউন্স! জানা গিয়েছে, সদ্য নির্বাচিত সভাপতি হুমায়ুন কবীর ক্লাবকে যে দেড় কোটি টাকার অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই অর্থের জন্য দেওয়া ৫০ লক্ষ টাকা করে তিনটি চেকই বাউন্স করেছে বলে ক্লাব সূত্রে খবর। ফলে ১ অগাস্টের মধ্যে খেলোয়াড়দের বকেয়া বেতন মেটানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে কালো-সাদা শিবিরে (Mohammedan Sporting Club)।
জানা গিয়েছে, সভাপতি হওয়ার পর হুমায়ুন কবীর ক্লাবকে মোট দেড় কোটি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই অনুযায়ী ১৭ জুলাই, ২০ জুলাই এবং ৩০ জুলাই তারিখের তিনটি পৃথক ৫০ লক্ষ টাকার চেক ক্লাবের হাতে তুলে দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট দিনেই চেকগুলি ব্যাঙ্কে জমা করে মহামেডান কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ব্যাঙ্ক সূত্রে জানানো হয়, হুমায়ুন কবীরের অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় পরপর তিনটি চেকই বাউন্স করেছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ, ১ অগাস্টের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা খেলোয়াড়দের বকেয়া বেতন মেটানোর সময়সীমা। প্রয়োজনীয় অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে ক্লাবের অন্দরেই উদ্বেগ বাড়ছে। বিকল্প উৎস থেকে দ্রুত অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা শুরু করেছেন কর্তারা।
এমনিতেই FIFA-র ট্রান্সফার ব্যান এবং প্রাক্তন সভাপতি আব্দুল কাদিরির বকেয়া পরিশোধের চাপের মধ্যে রয়েছে মহামেডান (Mohammedan Sporting Club)। সেই বকেয়া মিটিয়ে ক্লাবকে সম্ভাব্য শাস্তি ও নির্বাসনের ঝুঁকি থেকে বের করে আনার চেষ্টা চলছিল। তার মাঝেই সভাপতির দেওয়া অনুদানের চেক বাউন্স করায় আর্থিক সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
তবে মাঠের লড়াইয়ে এখনও ইতিবাচক ছবি দেখা যাচ্ছে। ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচে বারাণসীর বাঘপত এফসি-কে ৪-০ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে মেহরাজউদ্দিনের দল। সামনে রয়েছে সমলেশ্বরী এসসি এবং আর্মি রেড-এর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। কিন্তু মাঠের সাফল্য ধরে রাখতে হলে দ্রুত আর্থিক অচলাবস্থা কাটানো জরুরি বলেই মনে করছেন ক্লাবের সমর্থক ও ফুটবল মহল। তাঁদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে ISL-এ দেখা দেওয়া আগের আর্থিক সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে মহামেডানের (Mohammedan Sporting Club) ক্ষেত্রে।


