চেন্নাই: স্কুলগুলিতে মিড ডে মিলের (mid-day meal) দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণায় তোলপাড় হয়ে যায় রাজ্য। পড়ুয়াদের পাত থেকে ডিম বাদ পড়লে প্রোটিনের অভাব দেখা দেবে, বলে সোচ্চার হয় বিরোধীরা। যদিও অবশেষে, মিড ডে মিলে ডিম দেওয়া হবে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গে যেখানে স্কুলের মিড ডে মিলে ডিম নিয়ে বিতর্ক চরমে ওঠে, সেখানে ‘থলপতি’ নাকি স্কুলের পড়ুয়াদের বিরিয়ানি খাওয়াতে চলেছেন!
শুভেন্দুর মত একই সঙ্গে তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় বসেছেন ‘থলপতি’ বিজয় (C. Joseph Vijay)। সম্পূর্ণ নতুন একটি দল নিয়ে নির্বাচনে লড়ে জয়ী হয়ে যুবসম্প্রদায়ের কাছে কার্যত ‘সেনসেশন’ হয়ে গিয়েছেন প্রাক্তন অভিনেতা ‘থলপতি’ বিজয়। তামিলনাড়ুর দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার পর তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে, তামিলনাড়ুর সরকারি স্কুলগুলিতে মিড ডে মিলে (mid-day meal) পড়ুয়াদের বিরিয়ানি খাওয়ানোর জল্পনা।
জানা গিয়েছে, শিক্ষার্থীদের পাতে সপ্তাহে অন্তত একদিন চিকেন বিরিয়ানি পরিবেশনের প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্যের শিক্ষা দফতর। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী রাজমোহন এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের (C. Joseph Vijay) কাছে পাঠিয়েছেন। বর্তমানে সেটি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
স্কুল পুষ্টি কর্মসূচিতে তামিলনাড়ু বরাবরই দেশের অন্যতম পথপ্রদর্শক রাজ্য হিসেবে পরিচিত। সেই ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতিটি রাজনৈতিক আমলেই এই প্রকল্পকে আরও উন্নত করা হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে. কামরাজ প্রথম সরকারি স্কুলে বিনামূল্যে মধ্যাহ্নভোজ চালু করে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের স্কুলমুখী করার উদ্যোগ নেন। পরে এম. করুণানিধি মিড-ডে মিলের (mid-day meal) মেনুতে প্রথম ডিম যোগ করেন এবং আশির দশকে এই প্রকল্পকে আরও বিস্তৃত করে ‘নিউট্রিশিয়াস মিল প্রোগ্রাম’-এ রূপ দেন।
পরবর্তী সময়ে জে. জয়ললিতা সপ্তাহজুড়ে ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেন। সেই ধারাবাহিকতাকেই আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে এবার সপ্তাহে একদিন চিকেন বিরিয়ানি পরিবেশনের পরিকল্পনা করেছে বর্তমান সরকার। শুধু দুপুরের খাবার নয়, বদল আসতে পারে সকালের খাবারের তালিকাতেও। ২০২২ সালে চালু হওয়া ‘পেরুনথালাইভার কামরাজার প্রাতঃরাশ প্রকল্প’-এর আওতায় বর্তমানে প্রাথমিকের পড়ুয়ারা সকালে পুষ্টিকর খাবার পায়। তবে শিক্ষামন্ত্রীর মতে, গম বা সুজির উপমার মতো একঘেয়ে খাবার শিশুরা প্রতিদিন পছন্দ করছে না। তাই আরও সুস্বাদু, বৈচিত্র্যময় এবং পুষ্টিকর বিকল্প মেনু চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সরকারের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সরকারি স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার বাড়তে পারে, স্কুলছুটের সংখ্যা কমতে পারে এবং শিশুদের প্রোটিন ও পুষ্টির ঘাটতি মেটাতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এখন গোটা রাজ্যের নজর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের (C. Joseph Vijay) সিদ্ধান্তের দিকে। তাঁর অনুমোদন মিললেই তামিলনাড়ুর স্কুল পুষ্টি কর্মসূচিতে আরও একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে পারে।


