Aaj India Desk, কলকাতা : দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় ছিলেন তিনি। মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। বহু বছর ধরে একাধিক রাজ্যে তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলেছে, কিন্তু নাগাল মেলেনি। বারবার ফসকে গিয়েছিলেন নিরাপত্তা বাহিনীর হাত থেকে। একসময় আদালত চত্বর থেকেই তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল মাওবাদীরা। অবশেষে মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ডে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন সেই সিপিআই (মাওবাদী)-র শীর্ষ নেতা মিসির বেসরা (Misir Besra)।
সম্প্রতি গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য আসে যে মিসির বেসরা (Misir Besra) ঝাড়খণ্ডের পার্শ্বনাথ পাহাড় সংলগ্ন জঙ্গলে সহযোগীদের নিয়ে আত্মগোপন করে রয়েছেন। এরপর সিআরপিএফ, গিরিডি ও ধানবাদ পুলিশের যৌথ বাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করে। মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ ধানবাদ-গিরিডি সীমান্তে জঙ্গল থেকে পালানোর সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঝাড়খণ্ড পুলিশ জানিয়েছে, রাজ্যে আরও ১৬ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের মাথার দাম মিলিয়ে ছিল ৩৯ লক্ষ। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন সন্তোষ মাহাত ওরফে বাসুদেব দা ওরফে দিলীপ। তাঁর বিরুদ্ধে ১২৮টি মামলা রয়েছে এবং তাঁর মাথার দাম ছিল ১৫ লক্ষ। এছাড়া দুই সাব-জোনাল কমিটি সদস্য এবং দুই এরিয়া কমিটি স্তরের নেতাও অস্ত্র ছেড়েছেন বলে জানান পুলিশের যৌথ বাহিনী।
উল্লেখ্য, ৬৬ বছর বয়সি মিসির বেসরা (Misir Besra) সিপিআই (মাওবাদী)-র পলিটব্যুরোর ঝাড়খণ্ড-ভিত্তিক একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে পরিচিত। ভাস্কর ও সাগর নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন। সংগঠনের কৌশল নির্ধারণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে গোয়েন্দা সংস্থার দাবি।২০০৭ সালে ঝাড়খণ্ডে তাঁকে একবার গ্রেপ্তার করা হলেও ২০০৯ সালে বিহারের লাখিসরাই আদালতে হাজিরার সময় মাওবাদীদের হামলার মধ্যে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যান তিনি। তারপর থেকেই তাঁকে ধরতে একাধিক রাজ্যে অভিযান চালানো হচ্ছিল। তবে এবার তিনি ধরা পড়ায় ২০২৬ সালে ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী-বিরোধী অভিযানে এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯৩ । এর মধ্যে আত্মসমর্পণ করেছেন ৪৫ জন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ২২ জন মাওবাদী। সেই প্রেক্ষাপটে মিসির বেসরার গ্রেপ্তারিকে চলতি বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।


