27.4 C
Kolkata
Tuesday, July 28, 2026
spot_img

‘উই ডিড ইট!’—যন্তর মন্তরের সেই রাত কেন দীর্ঘদিন মনে রাখবে ভারত?

SPECIAL FEATURE

৩৭ দিন যন্তর মন্তরে দাঁতে দাঁত চেপে অপেক্ষা! মেঝেতে ত্রিপল পেতে রাত কাটানো (CJP Protest)! হাতে প্ল্যাকার্ড, চোখে অনিশ্চয়তা, বুকভরা ক্ষোভ আর একটাই দাবী, পরীক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহি চাই। সেই অপেক্ষার অবসান হল ২৫ জুলাই। বিকেলের দিকে খবর ছড়িয়ে পড়ল, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন।

প্রথমে যেন কেউ বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। এক জনের মোবাইল থেকে আরেক জনের মোবাইলে খবর পৌঁছল। কয়েক সেকেন্ডের নীরবতার পর আচমকাই বিস্ফোরিত হল যন্তর মন্তর। চারদিক কাঁপিয়ে উঠল ‘জয় হিন্দ’ ধ্বনিতে। কেউ আনন্দে কেঁদে ফেললেন, কেউ অচেনা মানুষকে জড়িয়ে ধরলেন। মিষ্টি বিলি শুরু হল, উড়ল জাতীয় পতাকা। প্রতিবাদের মঞ্চ মুহূর্তের মধ্যে যেন বিজয় উৎসবে বদলে গেল।

সমর্থকেরা ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে কাঁধে তুলে নেন। মঞ্চে উঠে তাঁর ছোট্ট বার্তা, “উই ডিড ইট!” মাত্র তিনটি শব্দ। কিন্তু সেই শব্দে যেন ধরা পড়েছিল হাজার হাজার ছাত্র-যুবকের এক মাসেরও বেশি সময়ের লড়াই, ক্লান্তি আর বিশ্বাস।

যে আন্দোলনকে (CJP Protest) কেউ বিদ্রুপ করেছিলেন, যে তরুণ প্রজন্মকে ‘মিম আর রিলের প্রজন্ম’ বলে খাটো করা হয়েছিল, সেই Gen Z-ই এদিন প্রমাণ করল, সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরেও তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজেদের দাবি আদায় করতে পারে। ‘ককরোচ’ বলে কটাক্ষ করা নামটাকেই তারা নিজেদের পরিচয় বানিয়ে দেখিয়ে দিল, যতই চাপ আসুক, সহজে সরানো যায় না তাদের।

তবে উল্লাসের মাঝেও আন্দোলনের (CJP Protest) নেতারা মনে করিয়ে দেন, লড়াই এখানেই শেষ নয়। শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেই লড়াই এখনও বাকি।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে যন্তরমন্তরে বাজতে শুরু করে জাতীয় সঙ্গীত। হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে দাঁড়িয়ে গলা মেলান। অনেকের হাতেই তখনও জাতীয় পতাকা, কারও হাতে সংবিধানের কপি, কারও চোখে আনন্দের জল। সেই মুহূর্তে আন্দোলনের (CJP Protest) মঞ্চ আর শুধু প্রতিবাদের জায়গা ছিল না; হয়ে উঠেছিল এক প্রজন্মের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার প্রতীক। শেষবারের মতো মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হয়, সরকারের আশ্বাসে ভরসা রেখে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের (CJP Protest) শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফেরার আবেদন জানানো হয়।

ধীরে ধীরে ফাঁকা হতে থাকে যন্তরমন্তর। কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়া প্রত্যেকের মনেই যেন একটাই অনুভূতি! এটা শুধু একজন মন্ত্রীর ইস্তফার জয় নয়, এটা ছিল সেই সব ছাত্র-যুবকের জয়, যারা বিশ্বাস করেছিল, গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরও একদিন ক্ষমতার দরজায় পৌঁছাতে পারে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন