SPECIAL FEATURE
‘আজাদি’ স্লোগানকে (Azadi Slogan) ঘিরে ফের উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের আবহে ‘ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে’ এবং ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’-র মতো স্লোগান ওঠার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। তাঁর মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।
শমীক ভট্টাচার্যের অভিযোগ, রাজ্যে বামপন্থী সংগঠনের মদতে ‘দেশবিরোধী শক্তি’ সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, যারা দেশের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে স্লোগান দেবে, তাদের প্রতি কোনওরকম নমনীয়তা দেখানো উচিত নয়। পুলিশের কড়া পদক্ষেপের পাশাপাশি জনরোষের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর (Shamik Bhattacharya) দাবি, “এটি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সরকার, বাবরের নয়।”
শমীকের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ধর্মতলায় ছাত্র আন্দোলন ঘিরে অশান্তি, ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগে ইতিমধ্যেই একাধিক গ্রেপ্তারি হয়েছে। যদিও বিতর্কিত স্লোগান কারা দিয়েছেন এবং কোন পরিস্থিতিতে তা উঠেছে, তা নিয়ে এখনও রাজনৈতিক মতভেদ রয়েছে।
বিজেপির বক্তব্যের পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বার্তা দেওয়া কি উচিত? তাঁর বক্তব্য, কোনও অপরাধ হয়ে থাকলে তার বিচার আইন অনুযায়ী হওয়া উচিত। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করবে, আদালত শাস্তি দেবে, এটাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। ‘আজাদি’ স্লোগানকে (Azadi Slogan) ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়।
২০১৬ সালের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) বিতর্কের পর থেকেই এই স্লোগান (Azadi Slogan) জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র মতপার্থক্যের বিষয় হয়ে ওঠে। একদিকে অনেকের দাবি, ‘আজাদি’ মানে বৈষম্য, দারিদ্র্য বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার দাবি। অন্যদিকে বিজেপি-সহ একাধিক রাজনৈতিক শক্তির মতে, দেশের অখণ্ডতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এমন স্লোগান গ্রহণযোগ্য নয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, জাতীয়তাবাদ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ, এই বিষয়গুলি এখন ক্রমশ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠছে। ফলে ‘আজাদি’ স্লোগান (Azadi Slogan) ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।


