নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে সিজেপি আন্দোলনে (CJP Protest) আটকদের নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে দড়ি টানাটানিতে সিজেপি নেতৃত্ব। আন্দোলনের পরদিনই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তোলে ককরোচ জনতা পার্টি। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া FIR প্রত্যাহার, নতুন করে কোনও আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া এবং আটক এবং গ্রেফতার (CJP Protest) হওয়া সকলকে মুক্তি দিতে হবে, অন্যান্য দাবী সহ এই দাবীতেও কেন্দ্রের লিখিত প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরই আন্দোলন প্রত্যাহার করে সিজেপি।
দিল্লি সহ বিজেপি এবং এনডিএ সমর্থিত সকল রাজ্যের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য হবে, তা-ও মেনে নেয় কেন্দ্র। কিন্তু তারপরই শুরু হয় কলকাতায় গ্রেফতারি অভিযান! বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে প্রচুর আন্দোলনে (CJP Protest) অংশগ্রহণকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে আটক করা ব্যক্তিদের উপর গুন্ডাদমন আইন প্রযোজ্য হবেই বলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই আবহে মঙ্গলবার আন্দোলনকারী গ্রেফতার মামলায় বড় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট।
মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, আন্দোলনের (CJP Protest) জেরে যাঁদের গ্রেফতার বা আটক করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সি সমস্ত নাবালক এবং যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক অতীত নেই, তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ একই সঙ্গে নির্দেশ দিয়েছে, দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই ইস্যুতে হওয়া বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর-গুলিতে আপাতত কোনও জোরপূর্বক পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই অন্তর্বর্তী সুরক্ষা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপরাধমূলক রেকর্ড বা ক্রিমিনাল অ্যান্টিসিডেন্ট রয়েছে, তাঁরা এই নির্দেশের আওতায় পড়বেন না।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের (CJP Protest) জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর বিভিন্ন রাজ্যে বহু ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছিল। আদালতের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের ফলে নাবালক এবং প্রথমবার অভিযুক্ত হওয়া বহু ছাত্র আপাতত আইনি সুরক্ষা পাবেন। তবে বাকিদের কবে মুক্তি মিলবে সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা।


