কলকাতা: ক্ষমতার পালাবদলের পর মমতার হাত ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে গিয়েছেন। ২০ জন বিশায়কের সঙ্গে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Bandopadhyay)। সোমবার রাতে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করেন তিনি। তারপরই রাতে উত্তর কলকাতার রাস্তাঘাট ছেয়ে যায় ‘চোর’, ‘বেইমান’ পোস্টারে। সাংসদের বাড়ির আশপাশ-সহ বিভিন্ন জায়গার দেওয়ালে সাঁটানো ওই পোস্টারে সুদীপের ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘বেইমান আর চোরটা/নয়নাদিদির বরটা’। তবে পোস্টারের মূল চমক ছিল নিচে লেখা দুটি নাম, ‘প্রচারে: তাপস রায়, কুণাল ঘোষ’। আর তা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
উত্তর কলকাতার রাজনীতির সঙ্গে পরিচিতদের কাছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Sudip Bandopadhyay) সঙ্গে তাপস রায় (Tapas Roy) ও কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্ব নতুন কোনও বিষয় নয়। তৃণমূলে থাকাকালীনই তাঁদের সম্পর্ক ছিল তিক্ত। গত লোকসভা নির্বাচনের আগে তাপস রায় দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ ছিল, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার কারণেই তাপসের দলত্যাগ। সেই সময় থেকেই উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের অন্দরে সুদীপ-বিরোধিতা প্রকাশ্যে আসে। এমনকি দলীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও এই ইস্যু নিয়ে তুমুল বাকবিতণ্ডার ঘটনা সামনে এসেছিল।
পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সমীকরণ আরও বদলায়। দীর্ঘদিনের দলীয় সম্পর্ক ছিন্ন করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Bandopadhyay) দিল্লিতে গিয়ে এনসিপিআই-এ যোগ দেন। এরপর সোমবার রাতে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আর সেই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর কলকাতাজুড়ে তাঁর বিরুদ্ধে কটাক্ষমূলক পোস্টার ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে পোস্টারের সঙ্গে নিজেদের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করেছেন তাপস রায় ও কুণাল ঘোষ। তাপস রায় (Tapas Roy) বলেন, “পোস্টারের বিষয়ে কিছু জানি না। তবে পোস্টারে যা লেখা হয়েছে, তার সঙ্গে আমি একমত। দলের কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ, অনেকেই ক্ষুব্ধ। ওঁকে এলাকায় কোনও কাজেই পাওয়া যায় না।”
অন্যদিকে কুণাল ঘোষও (Kunal Ghosh) স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওই পোস্টার লাগানোর ঘটনায় তাঁর কোনও ভূমিকা নেই। যদিও পোস্টারের নিচে তাঁদের নাম থাকায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা থামছে না। পোস্টারের নেপথ্যে কারা, তা নিয়েই এখন উত্তর কলকাতার রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর চর্চা।


