Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : এক ঢিলেই দুই পাখি।লোকসভার চলতি বাদল অধিবেশনের মাঝেই সোমবার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করলেন ‘কালিঘাট তৃণমূল’-এর সাংসদরা। এই বৈঠকে স্পিকারের কাছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানায় সংসদীয় দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নেতৃত্বে থাকা প্রতিনিধিদল। তবে এই দুই দাবির কোনও ক্ষেত্রেই স্পিকারের তরফে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক আশ্বাস মেলেনি।
কল্যাণের সাসপেনশন প্রত্যাহারের দাবি
সম্প্রতি এক প্রাক্তন মহিলা সহকর্মী তথা বর্তমান বিরোধী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চলতি অধিবেশনের জন্য লোকসভা থেকে সাসপেন্ড করা হয়। ফলে তিনি পুরো অধিবেশনেই অংশ নিতে পারবেন না। সোমবার এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে স্পিকারের কাছে আর্জি জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল।
২০ সাংসদের সদস্যপদ বাতিলের আর্জি
রাজ্যে সরকারের পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ২০ জন বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেন। এই ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংবিধানিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর দাবি, দলত্যাগী সাংসদদের সদস্যপদ বাতিলের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হোক।
তবে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং কলকাতা উত্তর কেন্দ্রের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এনসিপিআই-র সাংসদরা ইতিমধ্যেই স্পিকারের কাছে পৃথক সংসদীয় দলের স্বীকৃতি চেয়েছেন। পাশাপাশি লোকসভায় আলাদা আসন এবং সংসদীয় সুযোগ-সুবিধারও দাবি জানানো হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, লোকসভার অধিবেশন কক্ষে এনসিপিআই সাংসদদের জন্য পৃথক আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এর মধ্যেই স্পিকারের সঙ্গে এই বৈঠকের মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল একদিকে দলত্যাগী সাংসদদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের চাপ বাড়াতে চেয়েছেন বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। অন্যদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশন প্রত্যাহারের দাবিকেও রাজনৈতিকভাবে সামনে তুলে ধরেছে কালীঘাট তৃনমূল। এখন স্পিকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই থাকবে নজর।


