নয়াদিল্লি: নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ককরোচ জনতা পার্টি সহ দেশজুড়ে Gen Z-দের আন্দোলন (NEET Protest) এবং তার জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ শুধু দেশের রাজনীতিতেই নয়, আলোড়ন ফেলেছে প্রতিবেশী দেশগুলিতেও। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের বহু তরুণ-তরুণী সমাজমাধ্যমে ভারতের Gen Z-র সাহস, ঐক্য এবং প্রতিবাদী মনোভাবের প্রশংসা করেছেন।
পাকিস্তানের এক তরুণী সংবাদসংস্থাকে বলেন, “তোমরা যদি এত ভালো কাজ করতে থাকো, তাহলে কীভাবে তোমাদের ঘৃণা করব?” আবার একাধিক পাকিস্তানি কনটেন্ট ক্রিয়েটর মন্তব্য করেছেন, সুযোগ পেলে তাঁরাও ভারতের ছাত্র আন্দোলনের অংশ হতে চাইতেন। কেউ কেউ পাকিস্তানের যুব সমাজকে ভারতের ছাত্রদের কাছ থেকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের শিক্ষা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।
শ্রীলঙ্কাতেও ভারতের আন্দোলন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময় রাজাপক্ষ সরকারের বিরুদ্ধে হওয়া গণআন্দোলনের সঙ্গে ভারতের ছাত্র বিক্ষোভের মিল খুঁজে পেয়েছেন অনেকেই। শ্রীলঙ্কার তরুণ কর্মী ও আইন পড়ুয়ারা সমাজমাধ্যমে ভারতীয় ছাত্রদের লড়াইকে অনুপ্রেরণাদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন।
নেপাল থেকেও এসেছে সমর্থনের বার্তা। ২০২৫ সালের যুব আন্দোলনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে একাধিক নেপালি কনটেন্ট ক্রিয়েটর ভারতীয় ছাত্রদের উদ্দেশে বলেছেন, “তোমাদের ক্ষোভ যথার্থ। লড়াইয়ের লক্ষ্য যেন কখনও ভুলে যেও না।” বলা বাহুল্য, ২০২৫ সালে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যানের বিরুদ্ধে নেপালের জেন জি-রা পথে নেমে কে পি অলির সরকার পরিবর্তন করে ফেলে। বর্তমানে তাঁদের দেশ জেন-জি পরিচালিত।
বিশেষ করে মুম্বইয়ে রিয়া আহিরের পুলিশের গাড়ির সামনে রুখে দাঁড়ানোর ছবি এবং আন্দোলনের বিভিন্ন ভিডিও আন্তর্জাতিক স্তরে ভাইরাল হয়েছে। অনেকের মতে, মিম, রিল এবং সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে ভারতের Gen Z দেখিয়ে দিয়েছে, নতুন প্রজন্ম কীভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে গণআন্দোলনের শক্তিতে পরিণত করতে পারে।
প্রতিবেশী দেশগুলির তরুণদের একাংশের মতে, এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল ধর্ম, জাতি বা ভাষার বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে একটি সাধারণ দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। ভারতের Gen Z-র এই আন্দোলন (NEET Protest) তাই শুধু একটি ছাত্র আন্দোলন নয়, দক্ষিণ এশিয়ার যুব সমাজের কাছেও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ ও সংগঠনের নতুন উদাহরণ হয়ে উঠেছে।


