Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যে অতীতের একাধিক বিতর্কিত পুলিশি ঘটনার বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার বিধানসভায় তিনি জানান, আগের সরকারের আমলে পুলিশি ভূমিকা নিয়ে যেসব ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছিল, সেই সব মামলার প্রাথমিক তদন্তের পর এক আইপিএস অফিসার-সহ একাধিক পুলিশ আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত (Suspension) করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি ঘটনায় নতুন করে আইনি পদক্ষেপের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
কালিয়াগঞ্জে মৃত্যুঞ্জয় বর্মণ মৃত্যু
উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে এক নাবালিকা ছাত্রীর খুনের পর আন্দোলনের সময় রাজবংশী যুবক মৃত্যুঞ্জয় বর্মণের মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলন দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়েছিল এবং ওই ঘটনায় মৃত্যুঞ্জয় বর্মণ গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঘটনার তদন্তের ভিত্তিতে কালিয়াগঞ্জ থানার এএসআই মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, প্রাক্তন আইপিএস অফিসার পঙ্কজ দত্তকে রাজনৈতিক কারণে বড়তলা থানায় দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়েছিল। অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা থানায় বসিয়ে রাখা হলেও তাঁকে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হয়নি। এই ঘটনার জেরে তৎকালীন তদন্তকারী অফিসার এসআই সাধন দাস এবং বড়তলা থানার তৎকালীন আইসি সুবর্ণ দত্ত চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী বিসর্জন বিতর্কে ইনস্পেক্টর বরখাস্ত
কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী বিসর্জনের সময় লাঠিচার্জ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ইনস্পেক্টর অমলেন্দু বিশ্বাসকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরুর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
কাকদ্বীপে কালীমূর্তি বিতর্ক
কাকদ্বীপে কালীপুজোর সময় প্রতিমা প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তৎকালীন পুলিশ সুপার আইপিএস কোটেশ্বর রাওয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এই ঘটনায় তাঁকে বরখাস্ত করার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রশাসনকে কড়া বার্তা
বিধানসভায় একের পর এক এই ঘোষণার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, ক্ষমতার অপব্যবহার বা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অন্যায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসনের কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে সরকার পিছপা হবে না। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।


