Aaj India Desk, কলকাতা : নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলায় ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলির আন্দোলন ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের মধ্যে আক্রান্ত হন কর্তব্যরত একাধিক সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিক। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাতেই হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং ‘আসল’ তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপেরও ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী।
ধর্মতলায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি
কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় আন্দোলনে সামিল হয় ককরোচ জনতা পার্টি এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের লাঠিচার্জে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে জলের বোতল ও জুতো ছুড়ে দেয়। পুলিশের গায়ে জল ছিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাল্টা কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের মধ্যেই খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিক আক্রান্ত হন। আহতদের কয়েকজনকে এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করা হয়।
কড়া অ্যাকশনের হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ এসএসকেএম হাসপাতালে আহত সাংবাদিকদের দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, “কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন, এদের কী করতে হয় আমি জানি।” তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর পর হাসপাতালে যান ‘আসল’ তৃণমূলের দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করে তিনি বলেন, “এটা কোনও ছাত্র আন্দোলনের রূপ নয়। এটা চূড়ান্ত স্বৈরাচার। যেসব ভিডিও দেখলাম, তাতে প্রতিবাদীদের আচরণে আমি বিস্মিত।”
উল্লেখ্য, ঘটনার পর সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বাম ছাত্র সংগঠনও। তাদের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। এবার এই হামলার ঘটনায় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


