কলকাতা: একুশের মঞ্চে সাড়ে ২২ মিনিট ধরে ঝাঁঝালো বক্তব্য দিয়ে বেকায়দায় পড়েন তিনি! দীর্ঘ বক্তৃতা নিয়ে মমতার সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটিও হয় বলে শোনা যায়। কল্যাণের (Kalyan Banerjee) বক্তৃতার জন্য কথা থাকলেও মহুয়া, কীর্তিরা বক্তৃতা দিতে পারেননি! আবার বক্তৃতা শেষেই হনহনিয়ে সভাস্থল ছেড়ে চলে যান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই নিয়ে জোর জল্পনার মাঝে সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। এরপর বুধবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, বক্তৃতা চলাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণে তাঁকে বারবার থামতে হয়েছিল। পরে বক্তব্য শেষ করার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন বলেও জানান।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে কল্যাণের দাবি, মাঠে নেমে সংগঠনের জন্য যারা লড়াই করেন, তাঁদের যথাযথ সম্মান দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই তিনি দলেই থেকে চালিয়ে যাবেন, তবে দলের নেতৃত্বকে কর্মীদের মূল্য বুঝতে হবে। এছাড়াও আরজি কর আন্দোলনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে বিস্ফোরক দাবি করেন কল্যাণ (Kalyan Banerjee)। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে তিনি কারও নাম প্রকাশ করেননি।
অন্যদিকে, কল্যাণের (Kalyan Banerjee) মন্তব্য নিয়ে তৃণমূলের তরফে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই দল করি।” একুশের মঞ্চে শুরু হওয়া অস্বস্তি এখন প্রকাশ্য রাজনৈতিক বার্তায় পরিণত হওয়ায় তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছেন, তিনি দল ছাড়ছেন না, তবে দলের ভিতরে থেকেই নিজের মতামত প্রকাশ করছেন।


