27.3 C
Kolkata
Wednesday, July 22, 2026
spot_img

পিছু হটার প্রশ্নই নেই! ‘আরশোলা’দের পাশে এবার পাঞ্জাবের কৃষকরাও

Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: মঙ্গলবার দুপুর গড়াতেই দিল্লির যন্তর মন্তর চত্বর ভরে ওঠে আন্দোলনরত (Jantar Mantar Protest) ছাত্র-ছাত্রীদের ভিড়ে। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁদের। কিন্তু সেই ঘটনার রেশ কাটিয়ে ফের একজোট হয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগের দাবিতে সরব হন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সব বয়সের পড়ুয়ারা। তাঁদের একের পর এক স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা যন্তর মন্তর এলাকা।

বিক্ষোভের মাঝেই আন্দোলনকারীদের মোবাইলে একসঙ্গে পৌঁছে যায় একটি ‘ব্রেকিং নিউজ’। সেখানে জানা যায়, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা নিজে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতাল এবং লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করেছেন। পাশাপাশি তাঁদের উন্নত চিকিৎসারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্দোলনকারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়। মুহূর্তের মধ্যে যন্তর মন্তর জুড়ে ধ্বনিত হতে থাকে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) জিন্দাবাদ’ স্লোগান। শত শত সশস্ত্র পুলিশকর্মীর উপস্থিতির মধ্যেই আন্দোলনকারীদের মুখে যেন ফুটে ওঠে জয়ের হাসি। পরে আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। আন্দোলনকারীদের মতে, ছাত্রদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে, আর সেটাকেই তাঁরা আন্দোলনের বড় নৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

তবে এই উচ্ছ্বাসের মধ্যেও উদ্বেগ কাটছে না আন্দোলনকারীদের। জানা গিয়েছে, সোমবার পুলিশের ধাওয়া থেকে বাঁচতে গিয়ে ব্যারিকেডে ধাক্কা লেগে এক তরুণীর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। বর্তমানে তিনি রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এত ঘটনার পরও নিজেদের দাবি থেকে একচুলও সরতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শিখা জৈন বলেন, তাঁদের প্রধান দাবি দুটি— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারকে সরকারিভাবে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই দুই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও স্পষ্ট করেন তিনি। একই সুর শোনা যায় মানেসরের পুনীত শর্মার গলাতেও। তাঁর বক্তব্য, লাঠিচার্জ, ভয় দেখানো বা দমন-পীড়ন চালিয়ে এই আন্দোলন থামানো সম্ভব নয়।

দিন যত এগোচ্ছে, ততই ককরোচ জনতা পার্টির এই আন্দোলনের পরিধি বাড়ছে। মঙ্গলবার সকালে পাঞ্জাব থেকেও একদল ছাত্র-ছাত্রী যন্তর মন্তরে এসে আন্দোলনে যোগ দেন। তাঁদেরই একজন অনুভব সিং বলেন, ছাত্ররাই দেশের ভবিষ্যৎ। সেই ভবিষ্যৎকে যদি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে দেশের অন্নদাতারাও চুপ করে থাকবেন না। প্রয়োজনে কৃষকরাও দিল্লির রাজপথে নেমে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াবেন।

অন্যদিকে, সিজেপি সূত্রে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন কৃষক সংগঠন ইতিমধ্যেই এই আন্দোলনে সামিল হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনই তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না সংগঠনটি। আন্দোলন মঞ্চ থেকেই সিজেপি প্রধান অভিজিত দীপক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সরকার চাইলে যন্তর মন্তরে এসে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত।”

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন