নয়াদিল্লি: দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের আইসিইউ-তে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন ২০ বছরের এক মহিলা। ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির ‘সংসদ চলো’ (CJP protest) অভিযানে পুলিশের ব্যারিকেডে ধাক্কা লেগে গুরুতর জখম হন তিনি। সরকারি হিসেব অনুযায়ী সেদিন পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল, জলকামানে আহত হন প্রায় ৯০ জন আন্দোলনকারী। যাঁদের মধ্যে ছিলেন অভিনেত্রী তথা সমাজকর্মী শাবানা আজমিও।
ককরোচদের ন্যায্য দাবির প্রতিবাদ রুখতে প্রশাসনের মরিয়া চেষ্টা এবং কেন্দ্র সরকারের আসল ‘রূপ’ দেখেছে সমগ্র দেশবাসী। তা সত্ত্বেও ককরোচদের (CJP protest) উপর লাঠিচার্জের ঘটনা শুনতে নারাজ আদালত! এর আগে মঙ্গলবার পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে জরুরী শুনানির আবেদন জানানো হলে আদালত বলে, “এসবের মধ্যে আদালতকে টানবেন না”!
এবার ককরোচদের আবেদন ফিরিয়ে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালতও! বুধবার ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে (CJP protest) অংশগ্রহণকারীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মামলাটি দ্রুত তালিকাভুক্ত করার আর্জি জানান আবেদনকারী আইনজীবী। তাঁর দাবি ছিল, আন্দোলনকারীরা জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরছেন। পাশাপাশি NEET-UG প্রশ্নফাঁস এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র ভূমিকা নিয়েও প্রতিবাদ চলছে। তাই বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে আদালতের বিবেচনার দাবি রাখে।
তবে আবেদন শুনেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “আমাদের সময় নষ্ট করবেন না। নিজের সময়ও নষ্ট করবেন না।” আইনজীবী যখন পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগের সমর্থনে ভিডিও ফুটেজ দেখাতে চান, তখনও আদালতের স্পষ্ট জবাব ছিল, “আমাদের সময় নেই। আমরা কোনও ভিডিও দেখতে পারব না।” বলা বাহুল্য, আদালত কেবল আইন প্রয়োগের প্রতিষ্ঠান নয়, জনআস্থারও প্রতীক। তাই বিচারপতিদের প্রতিটি মন্তব্য জনমনে বিশেষ প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যখন অভিযোগ পুলিশের বলপ্রয়োগ বা নাগরিকের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত, তখন আদালতের ভাষা ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
অনেকের কাছে এই মন্তব্য প্রশাসনিক বাস্তবতার প্রতিফলন, আবার অন্যদের কাছে এটি আন্দোলনকারীদের (CJP protest) হতাশার প্রতীক। শেষ পর্যন্ত মনে রাখতে হবে, আদালতের পর্যবেক্ষণ আর চূড়ান্ত রায় এক জিনিস নয়। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও বিচারাধীন এবং আদালত অভিযোগের সত্যতা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। তবে এই ঘটনা আরেকবার মনে করিয়ে দিল, ন্যায়বিচার শুধু হওয়াই যথেষ্ট নয়, তা হচ্ছে বলেও সাধারণ মানুষের কাছে প্রতীয়মান হওয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ।


